শিরোনাম :
নবারুণ অরুণ প্রভায় জাপানে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব: শামা ওবায়েদ বিহারের সিওয়ানে বাজি তৈরির কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: দুই শিশুসহ নিহত বেড়ে ৫ ফিলিপাইনে প্রশিক্ষণের সময় মাঝআকাশে দুই সামরিক বিমানের সংঘর্ষ, ৪ পাইলট নিহত বিশ্ব শান্তিরক্ষা ও সমন্বিত অগ্রযাত্রায় চীনের ‘নতুন দীর্ঘ মার্চ’ বিশ্বমঞ্চে ইতিবাচক চালিকাশক্তি চীন-কেনিয়া দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্বে নতুন গতি: সিএমজির বিশেষ সাক্ষাৎকারে স্পিকার সম্পাদকীয় : লাগামহীন নিত্যপণ্যের বাজার: সাধারণের দীর্ঘশ্বাস ও কাঠামোগত ব্যর্থতা দিল্লি পুলিশের শান্তি মুচলেকায় সই করতে অস্বীকৃতি আইসা সভানেত্রী নেহা বোরার পাঁচ বছরে পেনশন ব্যয় দ্বিগুণের শঙ্কা: চাঁদাভিত্তিক ব্যবস্থার সুপারিশ বেতন কমিশনের বৈশ্বিক সাইবার ঝুঁকির সতর্কতায় টানা ৩ দিন বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট

প্রবাসী লেখিকা রীতা রায় মিঠুর ‘চোখ যায় যদ্দুর’ অমর একুশে গ্রন্থমেলায়

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

আমেরিকা প্রবাসী লেখিকা রীতা রায় মিঠুর জন্ম নারায়ণগঞ্জে। বর্তমান নিবাস মিসিসিপি স্টেটে। কাজের অবসরে লিখে আনন্দ পান তিনি। আর সেই আনন্দের ভাগ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে ২০১৪ সাল থেকে প্রতিবছরই (শুধু ২০১৮ সাল বাদে) ঢাকায় অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে প্রকাশ করে আসছেন তা। চলতি মেলায় প্রকাশিত হচ্ছে তার ৬ষ্ঠ গ্রন্থ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি আশ্রয়ী উপন্যাসের দ্বিতীয় পর্ব ‘চোখ যায় যদ্দুর’। আগামী বইমেলায় ১ম ও ৩য় পর্ব মিলে একসাথে প্রকাশের ইচ্ছে রয়েছে তার।
এক টেলি-সাক্ষাৎকারে লেখিকা রীতা রায় মিঠু জানালেন, অবসরটুকু আনন্দময় করে তুলতেই তিনি কম্পিউটারের কি-বোর্ডে লিখে চলেন অবিরাম। লেখা কতোটা পাঠযোগ্য সে রায় পাঠকই দিতে পারেন। তবে তার ভাষ্য, স্বদেশ-প্রবাসের পাঠকদের ইতিবাচক সাড়াই তাকে লিখতে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। তার লেখা ঠাকুরবাড়ির আঁতুড়ঘরে (২০১৪); মুহূর্তে দেখা মানুষ (২০১৫); তুমি বন্ধু তুমি সখা (২০১৬); সাগর ডাকে আয় (২০১৭) এবং পারমিতার চিঠি (২০১৯) পাঠক মহলে যথেষ্ট সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়।
লেখিকার কাছে জানতে চেয়েছিলাম- তার এবারের বই ‘চোখ যায় যদ্দুর’ লেখার প্রেক্ষাপট।
আসুন জেনে নেই তার নিজের জবানীতেই-
‘একদিন ওয়ালমার্ট সুপার সেন্টারে গিয়েছিলাম কিছু কেনাকাটা করতে। হঠাৎ দেখতে পেলাম টয় সেকশনের কাছাকাছি এক আইলের ফ্লোরে একটা পুতুল কাত হয়ে পড়ে আছে! কোন বাচ্চা হয়তো পুতুলটাকে নিয়ে নাড়াচাড়া করে মেঝেতে শুইয়ে রেখে গেছে।
এগিয়ে নিচু হয়ে পুতুলটাকে তুলে শেলফে রাখতে যাচ্ছি, মনে হলো যেনো পুতুলটা আমার দিকে চোখ টিপলো! মুহূর্তের জন্য থমকালাম! পুতুলটাকে হাতের তালুতে দাঁড় করালাম, পুতুল আমার দিকে হাসিমুখে তাকিয়ে আছে! এবার ওকে হাতের উপরে শুইয়ে দিলাম, পুতুলও দুই চোখ বন্ধ করে ঘুম দিয়েছে। এবার ধীরে ধীরে ওকে শোয়া থেকে বসালাম, ও চোখ খুলে আমার দিকে তাকালো!
পূর্বজন্মের স্মৃতি যাদের মনে থাকে, তাদের বলা হয় ‘জাতিস্মর’। আমি জাতিস্মর নই, তবুও পুতুলটিকে হাতে নিয়ে মনে হচ্ছিলো সমুদ্রের ঢেউয়ে ভেসে ভেসে কিছু স্মৃতি আমার মস্তিষ্ককোষে ধাক্কা দিচ্ছে। মস্তিষ্কে যতো স্মৃতি ঘুমিয়ে ছিলো, সেগুলোকে জাগিয়ে দিতে চাইছে।
খুব অস্পষ্ট থেকে ক্রমেই স্পষ্ট হতে শুরু করেছে যার স্মৃতি, সে আমার শৈশবের একটিমাত্র অমূল্য সম্পদ, একটি পুতুল। পুতুলটি ছিলো আমার কাছে এক অপার বিস্ময়! যাকে শুইয়ে দিলে দুই চোখ নিজ থেকেই বন্ধ হয়ে যেতো, বসিয়ে দিলে আমার দিকে চোখ মেলে পিট পিট করে তাকাতো! মাঝে মাঝে চোখও টিপতো। ওর নাম আমি দিয়েছিলাম ‘চউখ ঘুরাইন্না পুতুল’। চউখ ঘুরাইন্না পুতুলকে মাথায় তুলতাম না উকুনে কামড়ে দেবে বলে, মাটিতে নামাতাম না পিঁপড়ে কামড়ে দেবে বলে!
আমার বর্তমান বয়স চুয়ান্ন। যদি পেছন ফিরে তাকাই, আমার পাঁচ-ছয় বছর বয়সের জীবনটাতো গত জন্মেরই মনে হবে! ’৬৯-’৭০ সালের কথা যদি এখন বলতে শুরু করি, সকলেই আমাকে ‘জাতিস্মর’ ডাকবে।
সময় সামনের দিকে ধায়, পুতুলটাকে পেয়ে আমার সময় পেছনের দিকে যাচ্ছে! কী অদ্ভূত! কেমন করে ছবির মতো ভেসে ভেসে আসছে একের পর এক দৃশ্য! বুকের ভেতর মোচড়াচ্ছে, ইতিহাসের অতল থেকেই যেনো আমার ‘চউখ ঘুরাইন্না পুতুল’ জেগে উঠছে। যাকে হারিয়ে ফেলেছি প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে, পঞ্চাশ বছর পর সে পুণর্জন্ম লাভ করে আমার হাতে ফিরে এসেছে!
অনুপ্রাণন প্রকাশনীর প্রকাশক আবু এম ইউসুফ দাদা একদিন বললেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিগুলো গুছিয়ে লিখে উনার কাছে পাঠাতে। উনি বই আকারে ছাপাবেন।
আমার নিজের স্মৃতিশক্তি ভালো, তার উপর মুক্তিযুদ্ধ এমনই এক জাজ্বল্যমান সত্য ইতিহাস বিস্মৃত হওয়ার নয়। আমার মেজদার স্মৃতিশক্তিও খুব প্রখর। আমাদের শরণার্থী জীবনের সময়টাকে লিপিবদ্ধ করতে মেজদার সাহায্য চাইলাম। মেজদা সাহায্য করেছে। বিভিন্ন তারিখ, জায়গার নাম, কিছু কিছু ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে কলকাতাবাসী সেজো মাসির সাথে যোগাযোগ করেছিলাম। তিনিও অনেক তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন।
একাত্তরে আমরা ছিলাম বালক-বালিকা, বন্দুক হাতে মুক্তিযুদ্ধ করিনি, অথচ মুক্তিযুদ্ধের অংশ হতে পেরেছি। শৈশবকালে শৈশব হারিয়ে আমরা হয়েছিলাম পরজীবী রিফিউজি। রিফিউজিদের কষ্ট থাকে, রিফিউজিদের জ্বালা-যন্ত্রণা, বেদনা-অপমান, অসহায়ত্ব থাকে সবই বুকের ভেতর, বাইরে থেকে কেউ জানে না, কেউ জানতে চায়ও না।
আমাদের কথাও গত ঊনপঞ্চাশ বছরে কেউ জানতে চায়নি।
রিফিউজি হওয়া অপরাধ নয়, রিফিউজি মানে রাজাকার নয়। রিফিউজি কেউ ইচ্ছে করে হয় না। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক হানাহানির বাই প্রোডাক্ট হিসেবে রিফিউজির সৃষ্টি হয়।
রিফিউজি হলেই তার জীবন ফুরিয়ে যায় না, তার দেশপ্রেম নিঃশেষ হয় না, স্বাধীনতার লড়াই থেকে দূরে সরে যাওয়া বুঝায় না। পরদেশের আশ্রয়ে থেকেও নিজের দেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া যায়।
রিফিউজিদের কথা অতীত এবং বর্তমান প্রজন্ম জানতে চায় না, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেনো জানতে পারে, সেই দায় মাথায় নিয়ে আমাদের বাল্যকালের স্মৃতিভান্ডার থেকে কুড়িয়ে যতোটুকু আহরণ করতে পেরেছি, সেটুকুই ‘চোখ যায় যদ্দুর’ বইটির মুক্তিযুদ্ধকাল পর্ব ‘একাত্তরের বালক বালিকা’ খন্ডে লিপিবদ্ধ করেছি।’
বইটি পাওয়া যাচ্ছে অমর একুশে গ্রন্থমেলার অনুপ্রাণন প্রকাশনের ২৩১-২৩২ নম্বর স্টলে।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD