স্পেনের রাজপরিবার কর্তৃক প্রদত্ত অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করতে স্পেন সফরে যাচ্ছেন আধুনিক ফুটবলের বরপুত্র লিওনেল মেসি। ২০২৬ সালের জন্য ক্রীড়া বিভাগে সম্মানজনক এই বৈশ্বিক স্বীকৃতির বিজয়ী নির্বাচিত হয়েছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ৪৩ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে এবারই প্রথম একক কোনো ফুটবলার হিসেবে এই অনন্য আন্তর্জাতিক সম্মাননা লাভ করছেন বিশ্বজয়ী এই অধিনায়ক।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘বার্লামেন টুডে’র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগামী ২৩ অক্টোবর স্পেনের ওভিয়েদো শহরের ঐতিহাসিক ‘তেয়াত্রো কাম্পোয়ামোর’ প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত এক রাজকীয় ও জমকালো অনুষ্ঠানে মেসির হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফেলিপে এবং রানি লেতিসিয়া সশরীরে উপস্থিত থেকে এই সম্মাননা তুলে দেবেন। পুরস্কারপ্রাপ্তির স্মারক হিসেবে প্রতিটি বিভাগের বিজয়ীদের প্রখ্যাত শিল্পী হুয়ান মিরোর নকশা করা একটি ঐতিহ্যবাহী ভাস্কর্য, বিশেষ সনদ, প্রতীকী ব্যাজ এবং ৫০ হাজার ইউরো অর্থমান প্রদান করা হয়ে থাকে।
এর আগে গত ৩ জুন ওভিয়েদোতে অনুষ্ঠিত জুরিবোর্ডের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে মেসিকে এই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা মনোনীত ২৭ জন খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বের মধ্য থেকে জুরিবোর্ড এককভাবে এই ফুটবল জাদুকরকে বেছে নেয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কেবল ফুটবল মাঠের অবিস্মরণীয় সাফল্য ও অনন্য ধারাবাহিকতাই নয়; মেসির মাঠের বাইরের বিনয়ী চরিত্র এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত ব্যাপক দাতব্য উদ্যোগ বিচারকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে।
উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালে প্রবর্তিত এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি প্রতিবছর বিজ্ঞান, সাহিত্য, শিল্পকলা, সামাজিক বিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ক্রীড়াসহ মোট আটটি ভিন্ন বিভাগে বৈশ্বিক পর্যায়ে যুগান্তকারী অবদান রাখা বরেণ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করে আসছে ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ফাউন্ডেশন’। সেই ধারাবাহিকতায় এবার প্রথম কোনো একক ফুটবলারের হাতে উঠছে স্পেনের অন্যতম সর্বোচ্চ এই সম্মানজনক পদক।
সূত্র: বার্লামেন টুডে