সম্প্রতি চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) সাথে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে কেনিয়ার জাতীয় সংসদের স্পিকার মোসেস ওয়েতাঙ্গুলা চীনের বিস্ময়কর অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, চীন বিশ্বমঞ্চে ইতোমধ্যে এক অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে এবং আফ্রিকা সহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এই মডেলটি অত্যন্ত অনুসরণীয়। তিনি আরও বলেন, যদি আমরা প্রেসিডেন্ট সি’র চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ ধারণ করি এবং বাস্তবায়ন করি, তাহলে সবাই শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করতে পারবে।
সাক্ষাৎকারে স্পিকার ওয়েতাঙ্গুলা উল্লেখ করেন, বর্তমান চীন তিন দশক আগের চীন নয়। আধুনিক সামাজিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন, ভারী উৎপাদন খাত, প্রকৌশল প্রযুক্তি এবং জনজীবনের সার্বিক মানোন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতা আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য শেখার এক দারুণ সুযোগ। তিনি বলেন, “চীন বর্তমানে আফ্রিকার উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর অন্যতম প্রধান ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার। আফ্রিকার প্রায় প্রতিটি দেশেই চীনের ইতিবাচক উন্নয়নমূলক উপস্থিতি দৃশ্যমান।”
চীন সফরকালে থিয়ানচিন বন্দরের কার্যক্ষমতা প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি নিজ চোখে বন্দরের আধুনিক পরিচালন দক্ষতা এবং কনটেইনার স্থানান্তরের পদ্ধতি দেখেছি। আগে যে কাজ শেষ করতে পুরো একদিন লাগত, আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এখন তা মাত্র এক ঘণ্টায় সম্পন্ন হচ্ছে। পরিবহন ও লজিস্টিকস খাতের গতি বৃদ্ধির ফলে অর্থনৈতিক সম্পদ সৃষ্টি হচ্ছে। এই সঞ্চিত অর্থ কৃষি, অবকাঠামো নির্মাণ ও কর্মসংস্থানমূলক খাতে পুনর্বিনিয়োগ করা সম্ভব, যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে। প্রযুক্তি ও স্মার্ট ম্যানেজমেন্টের ওপর ভিত্তি করে কীভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চালিত করতে হয়, তা চীন থেকে শেখার মতো।”
প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং প্রস্তাবিত বৈশ্বিক উদ্যোগগুলোর প্রসঙ্গে কেনিয়ার স্পিকার বলেন, বর্তমান অনিশ্চিত বিশ্ব বাস্তবতায় প্রেসিডেন্ট সি-র চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী। যখন বৈশ্বিক সংঘাত ও হুমকি বাড়ছে, সভ্যতার ধারা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং মানুষের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তখন এই উদ্যোগগুলো বিশ্বের সামনে শান্তির দিশা দেখায়। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “বিশ্বের প্রতিটি দেশ যদি এই চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে, তবেই একটি টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব। আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট সি-র এই দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গিকে পূর্ণ সমর্থন জানাই এবং তা বিশ্বমঞ্চে সক্রিয়ভাবে প্রচার করি।”
চীন-কেনিয়া কূটনৈতিক সম্পর্কের অটুট ভিত্তির কথা স্মরণ করে ওয়েতাঙ্গুলা আরও জোর দিয়ে বলেন, কেনিয়া সব সময় চীনের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় ঐক্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। “কেনিয়া দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে চীন একটি অখণ্ড রাষ্ট্র। কেনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কয়েকটি দালাল গোষ্ঠী তথাকথিত ‘তাইওয়ান স্বাধীনতা’ সমর্থনের বিনিময়ে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আমি তাদের স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলাম এবং জানিয়েছিলাম কেনিয়া কখনোই এই নীতি থেকে বিচ্যুত হবে না। কারণ নীতিটি খুব সহজ—আমরা নিজেদের রাষ্ট্রের জন্য যা আশা করি, বন্ধু রাষ্ট্রের প্রতিও ঠিক একই নীতি লালন করি।”
সূত্র: স্বর্ণা-তৌহিদ-সুবর্ণা,চায়না মিডিয়া গ্রুপ