দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র মোংলা সমুদ্রবন্দরের পরিচালন সক্ষমতা সম্প্রসারণ, প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ বেগবান করা এবং পণ্য খালাস প্রক্রিয়া আধুনিকায়নের তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার মোংলা বন্দর ও উপকূলীয় এলাকা ঘিরে দিনব্যাপী বহুমুখী পরিদর্শন ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে বিকালে রাজধানী ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন তিনি।
সফরের অংশ হিসেবে দুপুরে মোংলায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বন্দর জেটি এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (Economic Zone) সামগ্রিক অবকাঠামো সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, আন্তর্জাতিক নাব্য চ্যানেলে নিয়মিত ড্রেজিং, কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) নতুন টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বন্দর কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশদ আলোচনা করেন সরকারপ্রধান। পরে বন্দরের প্রশাসনিক ভবনে এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় প্রশাসন, বন্দর কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দরকে একটি আধুনিক ‘আঞ্চলিক বাণিজ্যকেন্দ্র’ (Regional Hub) হিসেবে রূপান্তরের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সংযোগ বা কানেক্টিভিটি বাড়ানো এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে অবকাঠামোগত জটিলতা দ্রুত নিরসনের নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে মোংলা, পশুর নদ ও সুন্দরবন সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে কয়েক স্তরের কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল ও সাধারণ মানুষের মাঝেও এই সফর ঘিরে ব্যাপক আশাবাদ লক্ষ্য করা গেছে। বাগেরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং স্থানীয় শিপিং ব্যবসায়ীদের মতে, পদ্মা সেতু ও খুলনা-মোংলা রেলসংযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহারের পাশাপাশি মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও ইকোনমিক জোন বাস্তবায়িত হলে এখানে বিশাল শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠবে এবং ব্যাপক বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) আসবে।
এর আগে সকালে ঢাকা থেকে বিশেষ হেলিকপ্টারযোগে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী। সুন্দরবনের প্রাণপ্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য বনের ভেতরে কোথাও হেলিকপ্টার অবতরণ না করে আকরাম পয়েন্ট, হিরণ পয়েন্ট ও ত্রিকোণ আইল্যান্ডের ওপর দিয়ে আকাশপথে উপকূলীয় এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। পরে খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে জলযানে নৌবাহিনীর দিগরাজ ঘাঁটিতে পৌঁছান এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিকেল সাড়ে ৩টায় মোংলা বন্দরের মূল জেটি পরিদর্শন করেন তিনি। পরিদর্শন শেষে বিকেল সোয়া ৪টায় অর্থনৈতিক অঞ্চলের দিকে যাওয়ার পথে সড়কে অপেক্ষমাণ নেতাকর্মীদের দেখে তিনি প্রটোকল ভেঙে গাড়ি থেকে নেমে আসেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কুশল বিনিময় করেন। কর্মসূচি শেষে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে মোংলার হেলিপ্যাড থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।
সূত্র: নিজস্ব প্রতিবেদক ও মোংলা প্রতিনিধি