বিশ্বব্যাপী সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কতা জারির পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে টানা তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট। তবে কেন্দ্রীয় এই পোর্টালটি বন্ধ থাকলেও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামগ্রিক সংযোগ এবং যাবতীয় আর্থিক লেনদেন কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে সাধারণ ব্যবহারকারীরা প্রবেশ করতে পারেননি; সাইটটিতে প্রবেশের চেষ্টা করলে সেখানে রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত (Maintenance) একটি বার্তা প্রদর্শিত হচ্ছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত উচ্চ সতর্কতা পাওয়ার পরপরই সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে ওয়েবসাইটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে সাইটটির সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এর সাইবার সুরক্ষা বলয় জোরদার করার কাজ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, ডিজিটাল সুরক্ষার শতভাগ নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত পোর্টালটি পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে না। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সিস্টেম ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যকার যাবতীয় আর্থিক আন্তঃসংযোগ একদম নিরবচ্ছিন্ন রয়েছে। ওয়েবসাইটটি পুনরায় চালুর বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা ধার্য করা হয়নি।
আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি মহলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা ‘পিএইচপি’তে (PHP) গুরুতর কিছু নিরাপত্তা ত্রুটি বা দুর্বলতা ধরা পড়ার পর থেকেই মূলত এই সাইবার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ক্যালিফ’ ও ‘উইজ’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির সহায়তায় এই বিপজ্জনক ত্রুটিগুলো শনাক্ত করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী এই সাইবার দুর্বলতার প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারও অভ্যন্তরীণভাবে সাইবার নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। সরকারের সেই নির্দেশনার অংশ হিসেবেই বাংলাদেশ ব্যাংক সম্ভাব্য হ্যাকিং ও ডেটা ব্রিচ ঠেকাতে নিজস্ব ওয়েবসাইটের সুরক্ষায় এই আগাম ও কঠোর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিবেদক