প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নয় মাস পেরিয়ে গেলেও গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের কোনো সুপারিশ বাস্তবায়িত না হওয়ায় গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত এই কমিশনের প্রস্তাবগুলোর একটি সুপারিশও এখন পর্যন্ত কার্যকর হয়েছে—এমন কথা তিনি বলতে পারছেন না।
শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) ষষ্ঠ সম্প্রচার সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কামাল আহমেদ বলেন, “আমাদের গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের যেসব প্রস্তাব ছিল, তার একটি প্রস্তাবও এ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়েছে—এমন কথা আমি বলতে পারছি না। এ জন্য আমি দুঃখিত।” তিনি আরও বলেন, চাইলে সরকার খুব সহজেই অন্তত ১৫ থেকে ২০টি সুপারিশ একটি নির্দেশনা জারির মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করতে পারত।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা হিসেবে সদ্য দায়িত্ব পাওয়া সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
কামাল আহমেদ তার বক্তব্যে জানান, তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা শুরুতে কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে ব্যস্ততা দেখালেও বাস্তবে কার্যকর কোনো অগ্রগতি হয়নি। “প্রতিবেদনটি বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর ও বিভাগের কাছে মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে যে মতামত এসেছে, তার সারকথা—এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করা যাবে না,” বলেন তিনি।
বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) একীভূত করে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান গঠনের সুপারিশের কথাও উল্লেখ করেন কমিশনপ্রধান। তার ভাষায়, এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগটিও সরকার নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
“এখন আর সময়ও নেই,” উল্লেখ করে কামাল আহমেদ বলেন, “এটাই হতাশা ও ক্ষোভের মূল কারণ।”
সাংবাদিক শাহনাজ শারমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী সারা হোসেন, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিজেসির উপদেষ্টা খায়রুল আনোয়ার, যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিজেসির ট্রাস্টি ফাহিম আহমেদ, বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি আল মামুন, সাংবাদিক তালাত মামুন, ইলিয়াস হোসেন ও মিল্টন আনোয়ার।
বক্তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, কাঠামোগত সংস্কার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কমিশনের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।