বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় ভারত। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কাঠামোগত ব্যবস্থার আওতায় থেকেই দ্বিপক্ষীয় সব বিষয় নিয়ে আলোচনায় নয়াদিল্লি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন।
রণধীর জয়সোয়াল বলেন, “এটাই ভারতের মনোভাব। আমরা এই সম্পর্ককে ইতিবাচক ও গঠনমূলক দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, যা হবে ভবিষ্যৎমুখী।”
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে আসাদ আলম সিয়ামের সম্ভাব্য নিয়োগ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে ভারতীয় মুখপাত্র বলেন, বিদ্যমান কাঠামোগত ব্যবস্থার মধ্য থেকেই দুই দেশের সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে চায় ভারত।
তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর কিংবা এ ধরনের সফরের সঙ্গে কোনো পূর্বশর্ত যুক্ত আছে কি না—এসব বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি জয়সোয়াল। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা সম্পর্কেও কোনো তথ্য তাঁর কাছে নেই বলে জানান তিনি।
এদিকে, দুই দেশের সামরিক পর্যায়ে যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততার একটি নতুন দৃষ্টান্ত দেখা যাচ্ছে ভারতের বহুপক্ষীয় যুদ্ধবিমান মহড়া ‘তরঙ্গ শক্তি’কে ঘিরে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত ভারতের রাজস্থানের যোধপুর এয়ার ফোর্স স্টেশনে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীও অংশ নিচ্ছে। বাংলাদেশের বিমানবাহিনী সি-১৩০জে পরিবহন বিমান নিয়ে মহড়ায় অংশগ্রহণ করবে। পাশাপাশি ৩২টি দেশ পর্যবেক্ষক হিসেবে মহড়াটিতে যুক্ত থাকবে।
২০২৪ সালে প্রথমবার আয়োজিত ‘তরঙ্গ শক্তি’ মহড়ায় বাংলাদেশ কেবল পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নিয়েছিল। এবার সরাসরি মহড়ায় অংশগ্রহণের ফলে দুই দেশের সামরিক পর্যায়ের সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে এটি নতুন মাত্রা হিসেবে দেখা হচ্ছে।