সম্পাদকীয়:
একজন ভালো জন প্রতিনিধি হতে হলে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হলো জনগণের মনের ভাষা বোঝার ক্ষমতা। সেই ক্ষমতা থাকলেই একজন নেতা বা জন প্রতিনিধি একটি সুন্দর ও স্থিতিশীল রাষ্ট্রের ভিত্তি গড়ে তুলতে পারেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পশ্চিমা দেশগুলো নির্যাতিত ইহুদি জনগোষ্ঠীর জন্য ইজরাইল নামক একটি রাষ্ট্র গঠন করে। তখনকার পশ্চিমা জনগণ নির্যাতিত ইসরাইলিদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু আজ প্রায় ৮০ বছর পর সেই পশ্চিমা জনগণ পাল্টা অবস্থান নিয়েছে। কারণ মানুষ কোন হত্যাকাণ্ড বা ধ্বংসচেষ্টাকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেন না।
সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাজ্য একযোগে স্বাধীন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের পক্ষে ভোট দিয়েছে। যে জাতিসংঘ গঠিত হয়েছিলো জার্মানির আগ্রাসন থেকে বাঁচার জন্য, তার নতুন মহাসচিব জার্মান বংশোদ্ভূত আনালেনা বেয়ারবক, যিনি পূর্বে জার্মান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন, প্যালেস্টাইনের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন।
ইতিহাস কাউকে চিরতরে ভুলে যায় না। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ফন ডের লাইন , যিনি এক সময় জার্মানির প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন, আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। জনগণের প্রতিনিধি জনগণের ভাষা বুঝবেন-এটাই স্বাভাবিক। এবং আজ প্রায় ৮০ বছর পর পশ্চিমা জনগণ একযোগে প্যালেস্টাইনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, নির্যাতিত মানুষের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
প্যালেস্টাইনে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ একটি পরিকল্পিত গণহত্যা ছিল । এটি ছিল শিশু হত্যার এক নির্মম নীল নকশা। শিশুদের হত্যা মানে একটি জনগোষ্ঠীর স্বাভাবিক বেড়ে উঠা ও জাগরণকে কঠোরভাবে দমিয়ে দেওয়া যায়। নির্মূল করে দেয়া যায় পৃথিবীর মানচিত্র থেকে একটি জাতিকে ।
আজকের এই সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ বাকিংহাম প্যালেসকে। লেডি ডায়নার স্বপ্ন আজ বাস্তবতার রূপ পেতে যাচ্ছে । এটি প্রমাণ করে, জনগণের মনের ভাষা বোঝার ক্ষমতা থাকলেই একটি উন্নত ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।