শিরোনাম :
কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কারিগরি সমন্বয় কমিটির দ্বিতীয় সভা নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লবায়ু সংকট মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোর কার্যকর সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী চীন-মার্কিন সুসম্পর্ক বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখবে: জরিপ খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় কৃষকদের আয় ও উৎপাদন সক্ষমতা নিশ্চিতের উদ্যোগ ওয়াশিংটনে সি চিন পিং, চীন-মার্কিন সম্পর্কের নতুন দিকনির্দেশনার প্রত্যাশা দক্ষিণ আফ্রিকায় বাড়িতে বন্দুক হামলা, নিহত ১১ ফিলিস্তিন-ইসরায়েলের স্থায়ী শান্তির একমাত্র নির্ভরযোগ্য পথ দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান: গুতেরেস বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চায় ভারত: জয়শোয়াল

ওয়াশিংটনে সি চিন পিং, চীন-মার্কিন সম্পর্কের নতুন দিকনির্দেশনার প্রত্যাশা

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং স্থানীয় সময় ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে বিশেষ বিমানে ওয়াশিংটনে পৌঁছে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফর শুরু করেন।

ওয়াশিংটনের অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটিতে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও তাঁর স্ত্রী ফেং লি ইউয়ানকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও ম্যাডাম ফেং লি ইউয়ানকে আতিথেয়তা করতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। এটি বিশ্বজুড়ে দৃষ্টি আকর্ষণকারী একটি সফর। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং একজন মহান নেতা। এটি একটি চমৎকার ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে গভীরভাবে মতবিনিময়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

বিমানবন্দরে মার্কিন শিশুরা সি চিন পিং ও ফেং লি ইউয়ানকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানায়। লালগালিচার দুই পাশে গার্ড অব অনার সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাঁদের সালাম জানায়। সামরিক ব্যান্ড চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে। এ সময় ২১ বার তোপধ্বনি করা হয় এবং শ্রদ্ধা জানাতে যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করে।

সি চিন পিং এক লিখিত ভাষণে চীনা জনগণের পক্ষ থেকে মার্কিন জনগণের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান।

সি চিন পিং উল্লেখ করেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই মহান দেশ এবং দুই দেশের জনগণই মহান হৃদয়ের অধিকারী। চীন ও মার্কিন জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ আদান-প্রদানের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। উভয় পক্ষের স্বার্থ গভীরভাবে জড়িত। দুই দেশের উচিত প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার হওয়া। চীনা জাতির মহান পুনরুজ্জীবন বাস্তবায়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে পুনরায় মহান করে তোলার লক্ষ্য গঠনমূলক কাজ করা ও পরিকল্পিতভাবে অগ্রসর হওয়া। এর মাধ্যমে উভয় পক্ষ একে অপরের সাফল্যে অবদান রাখতে পারে এবং বিশ্বকল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, চলতি বছরের মে মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চীন সফরের সময় চীন-মার্কিন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদানের লক্ষ্যে দুই দেশ একটি গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত একে অপরের দিকে এগিয়ে আসা, সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়া, প্রতিযোগিতা সীমিত রাখা এবং মতভেদ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শান্তির জন্য সহায়ক একটি স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলা। নতুন যুগে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দুই বৃহৎ দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার সঠিক পথ খুঁজে বের করতে হবে।

সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে এবং সময়ের পরিবর্তন ঘটছে। তবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহাসিক যুক্তি পরিবর্তিত হয়নি। দুই দেশের জনগণের বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগের আকাঙ্ক্ষাও অপরিবর্তিত রয়েছে। একইভাবে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন প্রত্যাশারও পরিবর্তন ঘটেনি।

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক এবং বিশ্ব পরিস্থিতি-সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে গভীরভাবে মতবিনিময় করতে, চীন-মার্কিন গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীল সম্পর্কের বিষয়বস্তুকে ধারাবাহিকভাবে সমৃদ্ধ করতে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের বিনিময় ও সহযোগিতার পরিসর সম্প্রসারণ করতে তিনি আগ্রহী। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মহলের ব্যক্তিদের সঙ্গে ব্যাপক যোগাযোগ স্থাপন এবং বন্ধুত্ব আরও গভীর করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

সি চিন পিং বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, উভয় পক্ষের যৌথ প্রচেষ্টায় এই সফর অবশ্যই ফলপ্রসূ হবে, দুই দেশের জনগণের কল্যাণ বৃদ্ধি করবে এবং বিশ্বশান্তির ক্ষেত্রে নতুন আশার সঞ্চার করবে।

চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পলিট ব্যুরোর সদস্য ছাই ছি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইসহ অন্যান্য সফরসঙ্গী একই বিমানে ওয়াশিংটনে পৌঁছান।

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পলিট ব্যুরোর সদস্য ও উপপ্রধানমন্ত্রী হে লি ফেং এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত শিয়ে ফেংও বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে তাঁকে স্বাগত জানান।

সি চিন পিং বিমানবন্দর থেকে গাড়িতে করে তাঁর অবস্থানস্থল হোটেলে যাওয়ার পথে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চীনা প্রবাসী ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা সড়কের দুই পাশে জড়ো হন। তাঁরা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পতাকা নাড়িয়ে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে স্বাগত জানান।

সূত্র: আনন্দী, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD