জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে বহুসংস্কৃতির এক বর্ণাঢ্য উৎসব। জার্মান বাংলা সোসাইটিসহ কয়েকটি সংগঠনের আয়োজনে প্রতিবাদ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিণত হয় শান্তি, সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে এক প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে।
আয়োজক হামিদুল খানের সভাপতিত্ব, পরিচালনা ও তাঁর নেতৃত্বে আনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন মেয়র ড. নার্গেস এসকান্দারি গ্রুনবার্গ। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিবিল ভোগল, কার্লহাইঞ্জ প্লাৎজ, মুস্তাফা লামজাহদি, মারি-লুইজ লেবারকে, স্টেফানি মোহর-হাউকে, মাইকে আতানাসভ ও মনিকা লিকার।

আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে জার্মানির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও শহরে উগ্র ডানপন্থী ও নয়া নাৎসি গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রপন্থী শক্তিগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ বাস্তবতায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের সদস্যরা সমাবেশে অংশ নিয়ে গণতন্ত্র, সহাবস্থান ও বৈচিত্র্যের পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।
ফ্রাঙ্কফুর্টকে জার্মানির অন্যতম বহুসংস্কৃতির নগরী হিসেবে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, বিশ্বের নানা দেশের মানুষ ও বিভিন্ন ভাষাভাষী সম্প্রদায়ের সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে শহরটি একটি উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের প্রতীক হয়ে উঠেছে। সেই ঐতিহ্য রক্ষায় ঘৃণা ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তারা।

রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি উৎসবজুড়ে ছিল বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের সংগীতশিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এতে জার্মানিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

বাংলাদেশ অংশে দেশীয় সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ তুলে ধরা হয়। পরিবেশিত হয় বাংলা গান, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তি। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী বাংলা রন্ধনশৈলীর বিভিন্ন পদ দর্শনার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়, যা উপস্থিত অতিথিদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে।

আয়োজকদের মতে, সংস্কৃতি ও শিল্পের মাধ্যমে ঘৃণা, বর্ণবাদ ও উগ্র মতাদর্শের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ গড়ে তোলাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। তারা আশা প্রকাশ করেন, বহুসাংস্কৃতিক সহাবস্থান ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।