শাহেদ রহমান, খালেদ বিন মুসা এবং মো. শাহরিয়ার মোল্লা।
জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব ব্রেমেনের স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন তিন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। ‘মাল্টিকালচারাল ক্যাম্পাস কানেক্ট’ (এমসিসি) প্যানেলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তারা শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। একই প্যানেল থেকে একসঙ্গে তিন বাংলাদেশির বিজয়কে বিশ্ববিদ্যালয়টির বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে এমসিসি প্যানেল মোট ভোটের ১১ দশমিক ৪৪ শতাংশ অর্জন করে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে। প্যানেলটির প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে নির্বাচিত হয়েছেন শাহেদ রহমান, খালেদ বিন মুসা এবং মো. শাহরিয়ার মোল্লা।
নির্বাচিতদের মধ্যে শাহেদ রহমান ও মো. শাহরিয়ার মোল্লা ইউনিভার্সিটি অব ব্রেমেনে কন্ট্রোল, মেকাট্রনিক্স অ্যান্ড মাইক্রোসিস্টেমস বিষয়ে মাস্টার্স করছেন। অন্যদিকে খালেদ বিন মুসা ডিজিটাল মিডিয়া অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিষয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত।
জার্মান উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংসদকে ‘স্টুডিয়েন্ডেনরাট’ (এসআর) নামে অভিহিত করা হয়। এই কাউন্সিলের সদস্যরা শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত হলেও ভোট প্রক্রিয়াটি ব্যক্তি-নির্ভর নয়; বরং শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্যানেল বা দলকে ভোট প্রদান করেন। একটি প্যানেল মোট ভোটের যে পরিমাণ অংশ পায়, সেই অনুপাতে ওই প্যানেলের প্রার্থীরা নির্বাচিত হন।
এমসিসি প্যানেলের প্রতিনিধিত্বকারী তিন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী তাদের যোগ্যতা, সক্রিয়তা ও জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নির্বাচিত হয়েছেন। স্টুডেন্ট কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার, কল্যাণ এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কাজ করবেন।
নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ফি থেকে গঠিত বাজেট ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণ করা। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধার জন্য বাস ও ট্রেনের ‘সেমিস্টার টিকিট’ সংক্রান্ত বিষয়ে পরিবহন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ও চুক্তি প্রক্রিয়াতেও তাদের ভূমিকা থাকে।
এছাড়া স্টুডেন্ট কাউন্সিলের সদস্যরাই ভোটের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী কমিটি ‘আলজেমাইনার স্টুডিয়েন্ডেন আউসশুস’ (আস্টা) গঠন করেন। সাধারণ ছাত্র সংসদ হিসেবে পরিচিত এ কমিটি শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধান, প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে ভূমিকা পালন করে।
ফলে নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে তিন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এখন ইউনিভার্সিটি অব ব্রেমেনের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অতীতেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করলেও একই প্যানেল থেকে একযোগে তিনজনের নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট, প্রশাসনিক জটিলতা এবং ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা।
১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউনিভার্সিটি অব ব্রেমেন জার্মানির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম শীর্ষ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশের প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী এখানে অধ্যয়ন করছেন। গবেষণার উৎকর্ষ, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও সামাজিক বিজ্ঞানে অবদানের জন্য প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত। এক সময় বিশ্ববিদ্যালয়টি জার্মানির মর্যাদাপূর্ণ ‘ইউনিভার্সিটি অব এক্সিলেন্স’ স্বীকৃতিও অর্জন করেছিল।