ইদ্রিস আলম: জন্মস্থানের প্রতি টান রয়েছে কমবেশি সবারই। সেই টানেই নিজ নিজ বাড়ির দিকে ছুটে মানুষ। জন্মস্থান ছেড়ে থাকাটা খানিকটা কষ্টের। তাই বিভিন্ন উৎসবে ছুটি পেলেই মানুষ ছুটে যায় নিজ গ্রাম বা আপন ঠিকানায়। ঢাকাবাসীদের কাউকে কাউকে ঈদের দ্বিতীয় দিনেও বাড়ির দিকে ছুটতে দেখা গেছে। লঞ্চ, বাস ও ট্রেন সবখানে ঘরমুখো মানুষের ঢল দেখে নাড়ির টানের কথা মনে পড়ে যায়।
সরেজমিনে রাজধানীর সদরঘাট, রেল স্টেশন ও বেশ কিছু বাস টার্মিনাল ঘুরে ভিড়ের চিত্র দেখা গেছে। ঈদের পরদিনও রাজধানী ছাড়তে ভিড় করেছেন দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের ঘরমুখো মানুষ। দেখে যেন বোঝার উপায় নেই ঈদের পরের দিনের চিত্র এটি। ঈদের পরের দিনও কেন এতো মানুষ ঘরমুখে ছুটছে? এ প্রশ্ন অনেকের।
এদিকে বৃহস্পতিবার (২৩ আগস্ট) ঈদের সরকারি ছুটি শেষ হলেও হাতে আছে শুক্র-শনিবার দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি। এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই লঞ্চে, বাস ও ট্রেনে রওনা হয়েছেন বিভিন্ন গন্তব্যে। রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোতেও দেখা মেলে ঘরমুখো মানুষের ভিড়। অতিরিক্ত টাকা নেয়াসহ যাত্রী হয়রানির অভিযোগ উঠেছে স্টেশনে দায়িত্বরত আনছার কর্মী ও ট্রেনের গার্ডদের বিরুদ্ধে।
কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলষ্টেশন ঘুরে দেখা যায়, কোন ট্রেনের আসন খালি নেই। কিছু সময় অপেক্ষা করে যে চিত্র ফুটে উঠে তাতে দেখা যায় ট্রেনের আসনবিহীন যাত্রীর সংখ্যা দ্বিগুণ। তবে বেশ কিছু যাত্রী অভিযোগের সুরে জানান, ‘সিট থাকার পরেও তাদের বলা হয়েছে সিট নেই। বেশি কথা বললে তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয় বলেও জানান তারা। একটি সিটের জন্য প্রায় ২ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও সিট পাওয়া যায়নি।
সুমন নামের একজন উত্তরবঙ্গের রংপুর ট্রেনের যাত্রী পরিবার নিয়ে শান্তাহারের উদ্দেশে যাবেন বলে বের হয়েছেন।
তিনি জানান, ঈদের আগে অনেক জ্যাম হবে পরিবার নিয়ে যাওয়া অনেক কষ্ট হবে তাই ভেবে ঈদের পরের দিন যাচ্ছি। তাওতো অনেক ভিড়।
যারা নানা কারণে ঈদের আগে গ্রামে যাওয়ার সুযোগ পাননি, তাদের কেউ কেউ স্বজনদের সঙ্গে কয়েকটা দিন কাটাতে টার্মিনালে ভিড় করছেন। আবার এই সময়টায় ভিড়ের চাপ কম থাকে বলে অনেকে যাচ্ছেন বেড়াতে। কেউ আবার কোরবানির গোশত নিয়ে যাচ্ছেন আত্মীয় স্বজনের বাড়ি। শুধু লঞ্চেই নয় বাস, ট্রেন সবখানে একই অবস্থা। কিন্তু কারো চোখে মুখে স্বস্থি মেলেনি। তারা যা ভেবে ঈদের দিন যাননি, সেই ভোগান্তিতেই পড়তে হয়েছে তাদের।
উত্তরবঙ্গের প্রায় সব বাসের টিকেট কাউন্টার আছে রাজধানীর উত্তরায় পরিবার নিয়ে ঈদের দিন বগুড়া যাবেন মাহামুদুল হাসান। শুনেছেন শুধু একতা গাড়ি চলছে। কিন্তু অনেক চেষ্টা করে ২টি টিকেট মেলাতে পারেননি তিনি। হতাশা নিয়ে ফিরে আসেন বাসায়।
বিআইডব্লিউটিএর পরিবহন পরিদর্শক (টিআই) মোহাম্মদ সেলিম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সদর ঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ১২টি লঞ্চ বিভিন্ন গন্ত্যব্যে ছেড়ে গেছে। সেগুলোতে যাত্রী ছিল কানায় কানায় ভরা। তবে ঢাকায় ফেরা লঞ্চগুলো অনেকটাই ফাঁকা।
যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সার্বিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়ে নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, সদরঘাটকে কেন্দ্র করে নদীতে এক সঙ্গে ১৩০ জন নৌপুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। সেই সংখ্যক পুলিশ সদস্য যাত্রীদের ফিরে আসা পর্যন্ত দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে।
মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ইব্রাহীম খান বলেন, যাত্রীদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিতে ঢাকা মহানগর পুলিশের ২৬৭ জন সদস্য পালাবদল করে দায়িত্ব পালন করছেন সদরঘাটে। এছাড়া পুলিশের ২৪ ও বিআইডব্লিউটিএ এর ৩২টি সিসি ক্যামেরা দিয়ে সার্বক্ষণিক এসব এলাকা মনিটরিং করা হচ্ছে।