২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরমে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ট্রফির জন্য মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের বর্তমান শ্রেষ্ঠত্বধারী স্পেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে একে অপরের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছে দুই শক্তিশালী দল।
ফাইনালের আগে ম্যাচের সম্ভাব্য ফল নিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছে ডাটা বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ‘অপটা সুপার কম্পিউটার’। তাদের পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের হিসাবে সামান্য এগিয়ে রাখা হয়েছে স্পেনকে। অপটার হিসাব অনুযায়ী, ম্যাচের মূল সময়ে স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা ৪৫ দশমিক ১ শতাংশ। বিপরীতে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ।
অন্যদিকে, নির্ধারিত সময় শেষে দুই দল সমতায় থাকলে ম্যাচ অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থাৎ পরিসংখ্যান স্পেনকে এগিয়ে রাখলেও ম্যাচটি যে সহজ হবে না, সেটিও উঠে এসেছে বিশ্লেষণে।
তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণ করা যায় না। এবারের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত অপটার বেশ কিছু পূর্বাভাস সফল হলেও সেমিফাইনালের লড়াইয়ে তাদের হিসাব পুরোপুরি মেলেনি। তাই সমর্থকদের বড় একটি অংশের বিশ্বাস, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা, কৌশল ও মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত বড় ভূমিকা রাখবে।
আর্জেন্টিনার জন্য এই ফাইনাল শুধু আরেকটি ম্যাচ নয়, বরং ইতিহাসের অংশ হওয়ার সুযোগ। ইতালি ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুই আসরে বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব অর্জনের হাতছানি রয়েছে লিওনেল মেসিদের সামনে। ২০২২ সালের শিরোপা ধরে রাখতে পারলে বিশ্ব ফুটবলে নতুন এক অধ্যায় যুক্ত করবে আর্জেন্টিনা।
অন্যদিকে স্পেনও ফিরতে চায় বিশ্বসেরার মঞ্চে। ২০১০ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার দ্বিতীয়বারের মতো ট্রফি ঘরে তোলার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে ইউরোপের এই শক্তিশালী দল। তরুণ খেলোয়াড়দের গতি, বল দখলে আধিপত্য ও আক্রমণাত্মক ফুটবল স্পেনকে ফাইনালের অন্যতম ফেবারিট করে তুলেছে।
একদিকে লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপের আবেগ, অন্যদিকে স্পেনের তরুণ ও আত্মবিশ্বাসী দলের চ্যালেঞ্জ—সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল পরিণত হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত এক ফুটবল মহারণে। তবে অপটার পূর্বাভাস যাই বলুক, শেষ হাসি কে হাসবে, তার সিদ্ধান্ত হবে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের মাঠেই।