যৌতুক ও মাদককে দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য অন্যতম বড় হুমকি উল্লেখ করে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, সমাজকে সুস্থ ও মানবিক করতে হলে পরিবর্তনের সূচনা হতে হবে ব্যক্তি ও পরিবার থেকে। অন্যের দিকে তাকিয়ে না থেকে প্রত্যেককে নিজের ঘর থেকেই যৌতুক ও মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।
শনিবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহরস্থ এলজিইডি ভবনের মিলনায়তনে আঞ্জুমানে রজরিয়া ট্রাস্ট আয়োজিত ‘যৌতুক ও মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমাজে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবিকতার কথা বলা হলেও বাস্তবে বিয়ের সময় যৌতুক দাবি কিংবা অপ্রয়োজনীয় বরযাত্রীর নামে কন্যাপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত অমানবিক। যৌতুকের কারণে অসংখ্য নারী প্রতিনিয়ত নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। তিনি বলেন, নিজের কন্যার প্রতি যে সম্মান ও ভালোবাসা দেখানো হয়, পুত্রবধূর প্রতিও একই আচরণ নিশ্চিত করা গেলে যৌতুকনির্ভর নির্যাতনের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
তিনি আরও বলেন, অন্যকে নৈতিকতার শিক্ষা দেওয়ার আগে সেই শিক্ষা নিজের পরিবারে বাস্তবায়ন করতে হবে। সামাজিক পরিবর্তনের সবচেয়ে কার্যকর ক্ষেত্র হচ্ছে পরিবার, আর সেখান থেকেই ইতিবাচক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটতে পারে।
যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন বলেন, মাদক কেবল একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও পুরো সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। গত কয়েক বছরে নীতি-নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধের যে অবক্ষয় ঘটেছে, তা মোকাবিলায় সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। তিনি বলেন, এলাকায় অপরাধীদের পরিচয় সাধারণত গোপন থাকে না। এমনকি নিজের সন্তান মাদকাসক্ত বা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়লেও তাকে আইনের আওতায় আনতে পরিবারের সদস্যদের সাহসী ভূমিকা পালন করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বেতার, টেলিভিশন ও পথনাটকের মাধ্যমে যৌতুক ও মাদকের ক্ষতিকর দিক নিয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা সম্ভব। পাশাপাশি আলেম-ওলামারা জুমার খুতবা ও ওয়াজ মাহফিলে এ বিষয়ে আলোচনা করলে সমাজে ইতিবাচক জনমত গড়ে উঠবে। তিনি ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সব স্তরের মানুষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মুহাম্মদ আবুল কাশেম নূরী (মু.জি.আ.)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিভিন্ন স্তরের আলেম-ওলামা, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।