দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গ্রেপ্তার হওয়া বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন বর্তমানে সেনাবাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সূত্রগুলো বলছে, তদন্তকারীরা হত্যাকাণ্ডের সময়কার ঘটনাপ্রবাহ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে তার কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়বস্তু আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি এবং এ বিষয়ে কোনো সরকারি বিবৃতিও দেওয়া হয়নি।
মোজাফফরের গ্রেপ্তারের পর মামলাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অপরাধ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের একটি আলোচিত মামলার তদন্তে এটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে। তবে তারা বলছেন, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অবশ্যই অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সেনা আইনে পলাতক ঘোষিত একজন সাবেক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা আইনানুগ পদক্ষেপ। তার মতে, তদন্তের প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য বিষয়ও সামনে আসতে পারে।
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আব্দুল কাইয়ুম বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তিনি মনে করেন, মেজর (অব.) মোজাফফরের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য তদন্তে সহায়ক হতে পারে। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বা মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র অনুযায়ী, ১৯৮১ সালে সংঘটিত ওই হত্যাকাণ্ডের পর মোজাফফর হোসেন আত্মগোপনে চলে যান এবং দীর্ঘ সময় তাকে পলাতক হিসেবে তালিকাভুক্ত রাখা হয়। সম্প্রতি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) রাজধানী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মামলার বিভিন্ন দিক যাচাই-বাছাই এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে।
সূত্র: যুগান্তর