শিরোনাম :
নবারুণ অরুণ প্রভায় জাপানে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব: শামা ওবায়েদ বিহারের সিওয়ানে বাজি তৈরির কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: দুই শিশুসহ নিহত বেড়ে ৫ ফিলিপাইনে প্রশিক্ষণের সময় মাঝআকাশে দুই সামরিক বিমানের সংঘর্ষ, ৪ পাইলট নিহত বিশ্ব শান্তিরক্ষা ও সমন্বিত অগ্রযাত্রায় চীনের ‘নতুন দীর্ঘ মার্চ’ বিশ্বমঞ্চে ইতিবাচক চালিকাশক্তি চীন-কেনিয়া দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্বে নতুন গতি: সিএমজির বিশেষ সাক্ষাৎকারে স্পিকার সম্পাদকীয় : লাগামহীন নিত্যপণ্যের বাজার: সাধারণের দীর্ঘশ্বাস ও কাঠামোগত ব্যর্থতা দিল্লি পুলিশের শান্তি মুচলেকায় সই করতে অস্বীকৃতি আইসা সভানেত্রী নেহা বোরার পাঁচ বছরে পেনশন ব্যয় দ্বিগুণের শঙ্কা: চাঁদাভিত্তিক ব্যবস্থার সুপারিশ বেতন কমিশনের বৈশ্বিক সাইবার ঝুঁকির সতর্কতায় টানা ৩ দিন বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট

করোনা সংকটে বিপর্যস্ত বিশ্ব: স্বস্তির প্রত্যাশা সর্বত্র

ফাতেমা রহমান রুমা
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ২১ জুন, ২০২০

প্রাণঘাতী করোনা সংকটে বিপর্যস্ত বিশ্ব অর্থনীতি। কোটি কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচে নেমে গেছে। বেড়েছে রোগশোক ও দুর্ভিক্ষ। আজ সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে বেঁচে থাকাটা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। অদৃশ্য শত্রু করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এর আগ্রাসী থাবায় মানুষের ঘুম যেন কেড়ে নিয়েছে। অজানা আতঙ্ক আর গভীর উদ্বেগের মধ্যে এই অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করছে বিশ্বের ২১৩টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান বা রাষ্ট্রনায়ক তথা তার জনগণকে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, বড় হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। সেই চীনের উহান প্রদেশে থেকে শুরু করে এই প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সারা বিশ্বে এখন মহামারি আকারে রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে করোনাক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে এবং ১ হাজারের অধিক মানুষ মারা গেছেন। এছাড়া ইউরোপের দেশসমূহে করোনাক্রান্ত ও মৃত্যুতে রেকর্ড। যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইটালি, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ায় করোনায় সর্বাধিক মানুষ আক্রান্ত ও মৃত্যু দেখা যাচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে করোনার প্রভাবে সৃষ্ট সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বাংলাদেশে শিশু, বিশেষত যারা শহর বা গ্রামের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাস করছে, তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। আর গত ৯০ দিনে ‘লকডাউনে’ কার্যত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ায় বাংলাদেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ পরিবারের উপার্জন ক্ষক্ষিগ্রস্ত হয়েছে। যার মধ্যে দৈনিক রোজগার বা ব্যবসা বন্ধ থাকায় ৭৮.৩ শতাংশ পরিবারের উপার্জন কমেছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়াার্ল্ড ভিশনের কোভিড-১৯ র‌্যাপিড ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশ শিশু। যার মধ্যে ৪৬ শতাংশ দ্রারিদ্র এবং এর এক-চতুর্থাংশ অতিদারিদ্রতার মধ্যে বেড়ে উঠছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ৮টি বিভাগের ৫২টি উপজেলার ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী ১ হাজার ৬১৬ জন শিশু এবং ২ হাজার ৬৭১ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর পরিচালিত জরিপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে র‌্যাপিড ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
এছাড়া ইউরোপের সর্বাধিক প্রযুক্তিনির্ভর দেশ জার্মানিতে করোনাভাইরাসের মহামারীর প্রভাবে বড় ধরনের অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, হোটেল-রেস্তোঁরা ও বারগুলোতে মালিকদের ব্যয় সংকিন্নতায় কর্ম হারিয়েছেন বহু মানুষ। সম্প্রতি জার্মানির কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ডেস্টাসিস জানিয়েছে, পরপর দুটি আর্থিক কোয়ার্টারে জিডিপি কমেছে। এর মাধ্যমে জার্মানি এখন মন্দার মধ্যে রয়েছে।
ডেস্টাসিস বলছে, এ বছরের প্রথম কোয়ার্টারে (জানুয়ারি-মার্চ) জিডিপি কমেছে ২.২ শতাংশ। ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকটের পর এটিই সবচেয়ে খারাপ অবস্থা। এদিকে করোনার কারণে এ বছরের দ্বিতীয় কোয়ার্টারে জিডিপি আরও বেশি কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ করোনা সংকট মোকাবিলায় মার্চের মাঝামাঝি থেকে মে মাসের প্রথম পর্যন্ত জার্মানিতে সবকিছুতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছিল। ফলে আর্থিক কর্মকাণ্ড ও উৎপাদন প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। এই অবস্থায় কোনো কোনো অর্থনীতিবিদ দ্বিতীয় কোয়ার্টারে জিডিপি ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমারও আশঙ্কা করছে। করোনার তাণ্ডবে পুরো বিশ্বে আজ সামাজিক, অর্থনীতি, রাষ্ট্রীয়সহ সব ক্ষেত্রেই বিরাজ করছে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি। বন্ধ হয়ে গেছে বহু শিল্প-কারখানার স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম, কর্মহীন হয়ে পড়েছে কোটি কোটি মানুষ, ঝুঁকিতে রয়েছে আরও কোটি কোটি কর্মজীবি ও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ। বিশ্ব বাণিজ্যেও ধস নেমেছে ইতোমধ্যেই। ইতোমধ্যে করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জার্মান কোম্পানি ও কর্মীদের আর্থিক সহায়তা দিতে কমপক্ষে ৫৫ হাজার কোটি ইউরোর ইউরোর আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে দেশটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিই জার্মানির সবচেয়ে বড় আর্থিক প্রণোদনার ঘটনা। তবে কবে কাটবে ভয়ঙ্কর করোনা এই তাণ্ডবতা তা সম্পর্কেও নেই কোনো স্পষ্টতা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনার এই তাণ্ডবতা বিশ্বে এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, সামনে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে আধুনিক বিশ্ব ব্যবস্থায় মানবজাতির জন্য অদৃশ্য শত্রু করোনাভাইরাস। যেন সব কিছু তছনছ করে আবারও নতুন পৃথিবীর জাগরণে মানবজাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে ‘করোনাভাইরাস’। একবিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানের এতো উন্নয়ন আর আবিস্কারের মধ্যেও বর্তমান সময়ে করোনা সংকটে বড় কঠিন দুঃসময়ের মুখোমুখি বিশ্ববাসী। অজানা, অচেনা এক শত্রুর বিরুদ্ধে কোনো প্রকার হাতিয়ার ছাড়াই প্রাণরক্ষার লড়াই করতে হচ্ছে বিশ্ববাসীকে। যদিও রোগটির প্রতিষেধক আবিষ্কারে নিরন্তন গবেষণা চলছে। আশা করা যায়, খুব দ্রুতই করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হবে। আমরা সেই প্রত্যাশাই করছি প্রতিনিয়ত, প্রতিক্ষণে। করোনার তাণ্ডবে বিপর্যস্ত বিশ্বে স্বস্তির আবহাওয়া দ্রুত প্রবাহিত হবে এই প্রত্যাশাই সর্বত্র। আশা করি, করোনা চির বিদায় নিয়ে পৃথিবী ছাড়বে! এ পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় পৌনে ৫ লাখ করোনামৃত্যুতে প্রাণহানি মানুষের আত্মার শান্তি কামনা করছি।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD