মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ ছাড়া বর্তমান বিশ্বের অস্থির পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
বুধবার রাজধানীর চাঁন কমিউনিটি সেন্টারে ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি উপলক্ষে আহলা দরবার শরীফ আয়োজিত পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.)-এর সেমিনার ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আবদুস সালাম বলেন, মহানবী (সা.)-এর পৃথিবীতে আগমন ছিল মানবজাতির জন্য এক অনন্য সুসংবাদ। তাঁর মাধ্যমে ইসলাম শান্তি, মানবতা ও সাম্যের বার্তা নিয়ে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামকে নানা উপায়ে বিতর্কিত করার চেষ্টা থাকলেও মহানবী (সা.) যে আদর্শ ও নীতির শিক্ষা দিয়ে গেছেন, সেই পথ অনুসরণ করলেই মানুষের কল্যাণ এবং সমাজে ন্যায় ও সাম্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের নানা প্রান্তে অস্থিরতা, সংকট ও নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এসব পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য মহানবী (সা.)-এর দেখানো মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক পথ অনুসরণ করা জরুরি। তাঁর আদর্শের আলোকে মানুষের মধ্যে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সম্মান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি সুন্দর বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব।
দেশের বিভিন্ন চলমান সংকটের প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলো বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, সেগুলো দীর্ঘদিনের সঞ্চিত সংকট। নতুন সরকার এসব সমস্যা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। আগের সরকারের সময়কার অনিয়ম ও উদাসীনতার কারণে এসব সংকট তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের সমস্যা একদিনে বা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে।
পুরোনো ঢাকার জলাবদ্ধতা নিয়ে তিনি বলেন, এ এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে। জলাবদ্ধতা থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি পেতে শুধু সাময়িক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে চলবে না; পানি বুড়িগঙ্গা নদীতে দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং খাল, বিল, পুকুর ও বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থান দখল করে স্থাপনা নির্মাণের ফলে পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে। পুরোনো ঢাকার বর্তমান বাস্তবতায় সরু রাস্তা ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পনা নিতে হবে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে তিনি প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ ঘরবাড়ি, আঙিনা এবং আশপাশের স্থান পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান। মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি হয় এমন স্থান দ্রুত পরিষ্কার করার পাশাপাশি সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় তিনি বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ।
পুরোনো ঢাকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুনভাবে তুলে ধরার পরিকল্পনার কথাও অনুষ্ঠানে জানান ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, এই এলাকাকে আরও সুন্দর ও পর্যটনবান্ধব করে তুলতে বুড়িগঙ্গা নদী পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পুরোনো ঢাকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকা নৌকাবাইচ, ঘুড়ি ওড়ানো, সাইকেল চালানো, কাওয়ালি ও কাসিদার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজনগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নতুন প্রজন্মের কাছে পুরোনো ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। এ লক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে সপ্তাহে দুই দিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের বাসে করে ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান আবদুস সালাম।
এই কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের আহসান মঞ্জিল, লালবাগ কেল্লা, শহীদ মিনার, বড় কাটরা ও তারা মসজিদসহ পুরোনো ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো ঘুরিয়ে দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু এসব স্থাপনার সঙ্গে পরিচিত হবে না, বরং বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা সম্পর্কেও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবে।