শিরোনাম :
ঢাকার পানি সংকট মোকাবিলায় ডেনমার্কের সহযোগিতা কার্যকর ভূমিকা রাখবে: এলজিআরডি মন্ত্রী পানি সংকট মোকাবিলায় প্রযুক্তি হস্তান্তর ও অববাহিকাভিত্তিক সহযোগিতা জরুরি নেপালে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যা, দেশজুড়ে বিক্ষোভ; কঠোর আইনের দাবি চীনের বাজার সম্পদভিত্তিক দেশগুলোর অর্থনীতিতে সহায়তা করছে: জরিপ যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থীদের প্রায় ২ লাখ ভিসা বাতিলের উদ্যোগ ফ্রাঙ্কফুর্টে বাঙালির মিলনমেলা: ফেনী অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণাঢ্য অভিষেক ইয়াসমিন হত্যা দিবস :ধর্ষণের পর হত্যায় ভয়াবহ ঊর্ধ্বগতি, সাত মাসেই নিহত ৫৮ ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ও মৃত্যু অর্ধেকে নামানোর লক্ষ্য: শেখ রবিউল আলম নিলামে গান্ধীর ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপি, দাম উঠল ২০ কোটির বেশি জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সার্ক-বিমসটেককে সক্রিয় করার তাগিদ

নেপালে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যা, দেশজুড়ে বিক্ষোভ; কঠোর আইনের দাবি

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬

নেপালের মদেশ প্রদেশে তিন বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নৃশংস এই ঘটনার পর শিশুদের সুরক্ষা এবং যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন রাজনীতিবিদ, মানবাধিকারকর্মী ও আন্দোলনকারীর

নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর গত সপ্তাহে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার প্রতিবাদে সিমারা শহরে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ চলে। পরে ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের সদস্যরা সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং একটি লিখিত চুক্তিতে পৌঁছান।

চুক্তি অনুযায়ী, সরকার গুরুতর অপরাধসংক্রান্ত আইন পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি নিহত শিশুটির স্মরণে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এই ঘটনা নেপালে অপ্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীদের বিচার ও শাস্তির বিধান নিয়েও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আন্দোলনকারীদের একটি অংশ ধর্ষণ ও হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত কিশোরদের জন্য আরও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিশুদের বিরুদ্ধে নৃশংস অপরাধ ঠেকাতে বিদ্যমান আইনি কাঠামোকে আরও কার্যকর করা প্রয়োজন।

বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী গৌরী প্রধান ঘটনাটিকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারকে ব্যাপক সংস্কারের জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। তবে অপরাধীদের জন্য মৃত্যুদণ্ড চালুর দাবির বিষয়ে তিনি সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।

ঘটনাটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পুলিশ হেফাজতে থাকা এক কিশোর সন্দেহভাজনের বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পুলিশ হেফাজতে থাকা ব্যক্তির এমন ভিডিও কীভাবে বাইরে এলো, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বারা জেলার প্রধান জেলা কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্র বিবিসিকে জানিয়েছেন, ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় সরাসরি জড়িত একজন পুলিশ সদস্যকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে।

নেপাল পুলিশের পরিসংখ্যানও দেশটিতে যৌন সহিংসতার উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশটিতে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ২৫ হাজার ৫০০টির বেশি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ২০০ জনেরও বেশি নারী ভুক্তভোগীর বয়স ছিল ১০ বছরের কম।

তিন বছরের শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা তাই শুধু একটি পরিবারের ওপর নেমে আসা ভয়াবহ ট্র্যাজেডি নয়, বরং নেপালে শিশু সুরক্ষা, বিচারব্যবস্থা ও যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে বিদ্যমান ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

সূত্র: বিবিসি

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD