সরকারি সেবা পেতে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে গিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভোগান্তির পরিবর্তে প্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিকদের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ ‘হ্যালো ডিসি’ প্রথম মাসেই সাড়া ফেলেছে। এই প্ল্যাটফর্ম চালুর পর এক মাসে অ্যাপ, ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে মোট ২ হাজার ৯১ জন নাগরিক বিভিন্ন ধরনের সেবা গ্রহণ করেছেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) ঢাকা জেলা প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে গত এক মাসের সেবা কার্যক্রমের এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের প্রকাশিত হিসাব বলছে, ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপে এ সময়ে ৯৪৪টি আবেদন জমা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৪২টি আবেদনের সেবা সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে ৩৯টি আবেদন প্রক্রিয়াধীন এবং ৪৬টি আবেদন পেন্ডিং রয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য না থাকা কিংবা আবেদনে ত্রুটি থাকায় ১১৭টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অ্যাপের বাইরে ফোনকল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও ১ হাজার ৩৪৯ জন নাগরিক সেবা নিয়েছেন। দুই মাধ্যমের হিসাব একত্র করলে এক মাসে ‘হ্যালো ডিসি’র আওতায় সেবা পাওয়া মানুষের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ হাজার ৯১ জনে।
এই ডিজিটাল উদ্যোগের মাধ্যমে নানা ধরনের নাগরিক সমস্যা ও প্রয়োজনের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে সরাসরি পৌঁছানো যাচ্ছে। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ, প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষের সহায়তা, প্রবাসীদের গণশুনানি, খাদ্যে ভেজালসংক্রান্ত অভিযোগ এবং অবৈধ খাসজমির বিষয়ে তথ্য বা অভিযোগ জানানোর সুযোগ পাচ্ছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।
একই সঙ্গে সাধারণ নাগরিকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রশাসন বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে।
ঢাকা জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমেও ‘হ্যালো ডিসি’ ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মাধ্যমে দোহারে একযোগে ১৪টি সেলাই মেশিন বিতরণ, ধামরাইয়ে ১৫ জন দুস্থ ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তা, বেদে পল্লীতে সহযোগিতা এবং কেরানীগঞ্জে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে নাগরিকদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।
ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, দ্রুত, সহজ ও ভোগান্তিমুক্ত সরকারি সেবা নিশ্চিত করাই ‘হ্যালো ডিসি’ চালুর মূল উদ্দেশ্য। সাধারণ মানুষ এখন বিভিন্ন অভিযোগ, আবেদন ও সেবার প্রয়োজনের কথা জেলা প্রশাসনের কাছে সরাসরি জানাতে পারছেন।
তিনি বলেন, কোনো সেবা যদি শুধু একটি ফোনকলের মাধ্যমেই দেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে সেই সেবা পাওয়ার জন্য একজন প্রবীণ নাগরিককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসার প্রয়োজন নেই। নাগরিকদের এই দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়েই সরকারি সেবাকে আরও সহজ ও মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়েছে।
‘হ্যালো ডিসি’র মাধ্যমে নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। প্ল্যাটফর্মটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জেপিটেকের চেয়ারম্যান মুর্তজা পলাশ জানান, নাগরিকদের কাছ থেকে সংগৃহীত তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার বা প্রকাশের সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, সেবা প্রদানের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তথ্য ব্যবহার করা হয় এবং তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে সরকারি সেবা সহজ করার পাশাপাশি নাগরিকদের আস্থা ও তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রথম মাসের পরিসংখ্যান বলছে, সরাসরি কার্যালয়ে উপস্থিত না হয়েও সরকারি সেবার সঙ্গে যোগাযোগের এই ব্যবস্থা ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছেছে। ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বাড়লে জেলা প্রশাসনের সেবা গ্রহণে নাগরিকদের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সূত্র: ঢাকা জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি ও প্রদত্ত সংবাদ প্রতিবেদন।