শিরোনাম :
ইয়াসমিন হত্যা দিবস :ধর্ষণের পর হত্যায় ভয়াবহ ঊর্ধ্বগতি, সাত মাসেই নিহত ৫৮ ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ও মৃত্যু অর্ধেকে নামানোর লক্ষ্য: শেখ রবিউল আলম নিলামে গান্ধীর ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপি, দাম উঠল ২০ কোটির বেশি জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সার্ক-বিমসটেককে সক্রিয় করার তাগিদ বাণিজ্যচুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা শুল্কের পথে কানাডা স্থানীয় সরকার খাতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা ফ্রাঙ্কফুর্টে শর্ট পিচ ক্রিকেটের মহোৎসব, প্রথম আসরেই চ্যাম্পিয়ন ফায়ার বয়েজ নিউইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রথমবার ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী দুয়ারে সরকারি সেবা: ‘হ্যালো ডিসি’তে মাসে উপকৃত ২,০৯১ জন গুম-নির্যাতনে ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকার ও ক্ষতিপূরণে আসছে নতুন অধিদপ্তর

বাণিজ্যচুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা শুল্কের পথে কানাডা

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে শেষ মুহূর্তের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের স্টিল, ইলেকট্রনিকস, কৃষিযন্ত্র, গৃহস্থালি সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্যে শুল্ক কার্যকর করবে অটোয়া। এই সিদ্ধান্ত দুই দীর্ঘদিনের মিত্র দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

শনিবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ৫০ শতাংশ শুল্কের জবাব দিতেই কানাডা এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। তার ভাষায়, কানাডার শ্রমিক, কৃষক, পরিবার ও ব্যবসায়ীদের সুরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্কের সমপরিমাণ পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুক্রবার রাত পর্যন্ত ওয়াশিংটন ও অটোয়ার মধ্যে নতুন বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। আলোচনার পরপরই কানাডীয় পণ্যের ওপর ট্রাম্পের নতুন ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার মধ্যকার মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

কার্নি বলেন, ‘তারা যা প্রস্তাব দিয়েছে, আমরা তা মেনে নিতে পারি না। আর তারা যা চেয়েছে, আমরা তা দেব না।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, কানাডা বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করতে চায়নি। বরং যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় দেশের অর্থনীতি ও নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য অটোয়া পাল্টা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।

নতুন মার্কিন শুল্কের প্রভাবে কানাডার ওয়াইন, আসবাব, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক, মাছ ধরার সরঞ্জাম ও হকি সরঞ্জামসহ বিস্তৃত পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কানাডীয় রপ্তানি ঝুঁকির মুখে পড়বে। অথচ গত ১৮ মাসে বাণিজ্যচুক্তির আওতায় কানাডার অধিকাংশ পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে।

কানাডার ঘোষিত পাল্টা ব্যবস্থায় মার্কিন স্টিল, দুগ্ধজাত পণ্য, কৃষিযন্ত্র, মণ্ড ও কাগজ, ইলেকট্রনিকস এবং বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নতুন শুল্কের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন কার্নি।

যুক্তরাষ্ট্র কানাডার প্রধান রপ্তানি বাজার হওয়ায় এই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া অটোয়ার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারনির্ভর। তবু ওয়াশিংটনের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে কানাডা সরকার।

এদিকে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিয়সন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, কানাডার সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরুর কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই। কানাডা পাল্টা শুল্ক আরোপ করায় যুক্তরাষ্ট্রও তার উপযুক্ত জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি জানান।

কার্নির মতে, আলোচনার একেবারে শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু নতুন শর্ত সামনে আনে, যা কানাডার অর্থনীতির জন্য অযৌক্তিক ও অন্যায্য ছিল। এসব শর্তের মধ্যে কানাডার ভবিষ্যতে নতুন বাণিজ্যচুক্তি করার সক্ষমতা সীমিত করার বিষয়ও ছিল। এ কারণেই আলোচনায় সমঝোতা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক কানাডার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকে বড় ধরনের চাপে ফেলতে পারে। নরম কাঠ ও ওয়াইনসহ কিছু খাতে রপ্তানি কমে যেতে পারে। এর প্রভাবে কর্মসংস্থান হ্রাস এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পগুলোর জন্য আগামী সপ্তাহে সহায়তা প্যাকেজ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কার্নি। প্রয়োজনে কয়েক বছর পর্যন্ত এই সহায়তা চালু রাখার কথাও বলেছেন তিনি।

অন্টারিওর সরকারপ্রধান ডগ ফোর্ড কানাডা সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত চুক্তি কার্যকর হলে অন্টারিওর গাড়ি, স্টিল ও উৎপাদন খাত ক্ষতির মুখে পড়ত।

গাড়ি নিয়ে দুই দেশের মতবিরোধ ছিল আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। কানাডা চেয়েছিল হালকা গাড়ির জন্য যে সুবিধাজনক শুল্কনীতি প্রস্তাব করা হয়েছিল, তা মাঝারি ও ভারী ট্রাকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হোক। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তাতে রাজি হয়নি।

কার্নি বলেন, ওয়াশিংটনের প্রস্তাব গ্রহণ করলে কানাডায় উৎপাদিত ফোর্ডের এফ-৩৫০, এফ-৪৫০ ও এফ-৫৫০ এবং জেনারেল মোটরসের সিলভেরাডোর মতো কয়েকটি মডেল চুক্তির সুবিধা হারাত। এতে কানাডার গাড়ি শিল্প আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হতো।

কানাডার সংস্কৃতি, ভাষা ও সার্বভৌমত্বের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—এমন কিছু প্রস্তাবও যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন কার্নি। তবে এসব প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তিনি।

ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করেই গত বছর নির্বাচিত হন কার্নি। দেশটির বিভিন্ন জনমত জরিপেও দেখা গেছে, অধিকাংশ কানাডীয় নাগরিক বাণিজ্যিক বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার পক্ষে নন।

অন্যদিকে কানাডার প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়েরে পোইলিভ্রে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির কারণে কানাডার কর্মসংস্থান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর অন্যায্য চাপ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি কানাডীয়দের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্র: রয়টার্স।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD