ঢাকা, ২৪ আগস্ট ২০২৬: দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অভিন্ন জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কোনো দেশের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; তাই এ অঞ্চলের দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই।
সোমবার ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে সাউথ এশিয়া রিজিওনাল ক্লাইমেট কোঅপারেশনের (SARCC) আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘কো-ডিজাইন দ্য ফিউচার অব সাউথ-এশিয়ান ক্লাইমেট ডিপ্লোমেসি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সভায় জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, গবেষক, উন্নয়নকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী ও তরুণ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি দূষণ নিয়ন্ত্রণেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকার আশপাশের নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করতে একটি মাস্টার প্ল্যান নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। বিশেষ করে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু নদীকে দূষণমুক্ত করতে নদীতে বর্জ্য ও দূষিত পানি প্রবেশের উৎসগুলো বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক জোট সার্ক এবং বিমসটেককে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর কোনো একক দেশের সমস্যা নয়; এটি আন্তঃদেশীয় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, সীমান্ত অতিক্রমকারী এসব সমস্যা মোকাবিলায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত বিশ্ব গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ড. এ কে এম সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের কোনো সম্ভাব্য হুমকি নয়; এটি দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান উন্নয়ন বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তার মতে, তাপপ্রবাহ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, হিমবাহের পরিবর্তন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো জলবায়ু ঝুঁকি জাতীয় সীমানা অতিক্রম করছে। ফলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত, আঞ্চলিক এবং ভবিষ্যতমুখী উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
সভায় বিশেষ অতিথিদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জাতীয় বৃক্ষরোপণ সেলের সদস্য ও কারিগরি বিশেষজ্ঞ জামাইল বশীর জেবি, ধরিত্রী রক্ষায় আমরার সদস্যসচিব শরীফ জামিল, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর আলোচকগোষ্ঠীর সমন্বয়কারী জিয়াউল হক এবং জলবায়ু আলোচক এম হাফিজুল ইসলাম খান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হাবিব রহমান। বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় অংশ নেন হিউম্যান সেফটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এম এ মুকিত এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী।
এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন সিসিডিবির জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির সমন্বয়কারী মো. আশরাফুজ্জামান খান, আইইউসিএন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সারোয়ার আলম দিপু, হেলভেটাস বাংলাদেশের ওয়াটার, ফুড অ্যান্ড ক্লাইমেট কর্মসূচির প্রধান মাহমুদুল হাসান তারেক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের সহকারী পরিচালক শারমিন নাহার নিপা এবং সেন্টার ফর অ্যাটমোসফেরিক পলিউশন স্টাডিজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান মজুমদার।
আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশনের অ্যাডভোকেসি বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ আলী শাহীন, পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. হাসিব মো. ইরফানউল্লাহ এবং উন্নয়ন অন্বেষণের পরিচালক এস এম মনজুর রশিদ।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমাত্রিক প্রভাব মোকাবিলায় শুধু জাতীয় পর্যায়ের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তথ্য, প্রযুক্তি, গবেষণা, নীতি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি কার্যকর কূটনৈতিক সহযোগিতাও প্রয়োজন।
সূত্র: সাউথ এশিয়া রিজিওনাল ক্লাইমেট কোঅপারেশন (SARCC)।