ঢাকা, ২৫ আগস্ট ২০২৬: রাজধানী ঢাকার ক্রমবর্ধমান বিশুদ্ধ পানির চাহিদা এবং পানি সংকট মোকাবিলায় ডেনমার্কের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। পানি সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পেও ডেনমার্ক বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলারের (Christian Brix Moller) সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ডেনমার্কের বিনিয়োগের সুযোগ নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
বৈঠকের শুরুতে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বাংলাদেশের পানি সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ডেনমার্কের অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা কাজে লাগানো যেতে পারে। বিশেষ করে রাজধানীর ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা পূরণ এবং নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশটির সহযোগিতা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও ডেনমার্কের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিশেষ করে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের মতো পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে ডেনমার্কের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।
বৈঠকে ঢাকার পানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ প্রকল্পে ডেনমার্ক সরকারের অর্থায়ন ও সহযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
প্রকল্পটির তৃতীয় ধাপে ডেনমার্ক সরকারের পক্ষ থেকে মোট সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অনুদান এবং ৩ হাজার কোটি টাকা স্বল্পসুদে ঋণ সহায়তা হিসেবে দেওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে ডেনমার্কের সহযোগিতা সরকারের জন্য একটি বড় অর্জন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীতে বিশুদ্ধ পানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে বড় ধরনের অগ্রগতি হবে।
তিনি বলেন, ঢাকার জনসংখ্যা ও নগরায়ণ দ্রুত বাড়ছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিশুদ্ধ পানির চাহিদাও বাড়ছে। সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপ বাস্তবায়িত হলে এই বাড়তি চাহিদার চাপ অনেকাংশে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
ডেনমার্কের অর্থায়নের বিষয়টি সরকারের আর্থিক সক্ষমতার জন্যও ইতিবাচক উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ সহায়তার ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে না। অনুদান ও স্বল্পসুদের ঋণের সমন্বিত সহায়তা প্রকল্পটি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের মধ্যে পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও টেকসই নগর উন্নয়নে সহযোগিতা সম্প্রসারিত হলে ঢাকার দীর্ঘদিনের পানি সংকট মোকাবিলা এবং পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
সূত্র: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ।