পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে পরিচালন চাহিদা পূরণে সর্বোচ্চ ১০টি উড়োজাহাজ লিজে নেওয়ার পাশাপাশি এয়ারবাস থেকে আরও ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিমানের বহরে থাকা ১৯টি উড়োজাহাজের মধ্যে তিনটি সাময়িকভাবে পরিচালনার বাইরে রয়েছে। ফলে ফ্লাইট পরিচালনায় চাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বহর সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। লিজের উড়োজাহাজ যুক্ত হলে মোট বহরের সংখ্যা দাঁড়াবে ২৯টি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের কারণে বোয়িং ও এয়ারবাসের নতুন উড়োজাহাজ দ্রুত পাওয়া যাচ্ছে না। নতুন বিমান সরবরাহে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। তাই তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে এবং আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণে লিজই সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, প্রাথমিকভাবে চারটি উড়োজাহাজ লিজে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও ভবিষ্যৎ পরিচালন প্রয়োজন বিবেচনায় তা ১০টিতে উন্নীত করা হতে পারে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে যাত্রীসেবা বৃদ্ধি এবং নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর সুযোগ সৃষ্টি হবে।
লিজ প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হবে। ইতোমধ্যে প্রায় ৪০টি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যাচাই শেষে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করবে।
এ ছাড়া ড্রাই লিজের আওতায় তিনটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার সংগ্রহের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। লক্ষ্য রয়েছে ২০২৭ সালের শুরুতেই এসব উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার।
অন্যদিকে, আগে করা চুক্তি অনুযায়ী ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৪টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি এয়ারবাসের প্রস্তাবিত ১০টি উড়োজাহাজের মধ্যে ছয়টি এ৩৫০-৯০০ এবং চারটি এ৩২১ নিও মডেলের বিমান রয়েছে।
সম্প্রতি এয়ারবাসের প্রস্তাব নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন এবং জার্মানির কূটনীতিকেরা ঢাকায় সরকারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে সম্ভাব্য সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ বিমান বহর সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়।
সূত্র: বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।