জুলাইয়ের আন্দোলন ও আত্মত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ন্যায়বিচার, সুশাসন ও আইনের শাসনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের আহ্বান জানান তিনি।
রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘জুলাই শহিদ সাংবাদিক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, অতীতে দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, গুম, নির্যাতন, বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড এবং বিরোধী মত দমনের ফলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়েই একটি জবাবদিহিমূলক ও গণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তবে বহু বছরের অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকট দূর করতে সময় লাগবে। রাষ্ট্র সংস্কার এবং উন্নয়নের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা সফল করতে জনগণের আস্থা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে রাজনৈতিক দল, সংবাদমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি গণমাধ্যমের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সাংবাদিকরা সত্য প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, অতীতের গুম, নির্যাতন, রাজনৈতিক হয়রানি ও মিথ্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন জরুরি।
অনুষ্ঠানে জুলাইয়ের শহিদ সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা জানানো হয় এবং প্রতিটি পরিবারকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, শহিদ সাংবাদিকদের পরিবারকে সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং এর চেতনাকে ধারণ করার বিষয়ে কাউন্সিল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, সাংবাদিক, শহিদ সাংবাদিকদের স্বজন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।