কানাডার দাবানল থেকে সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় কানাডাকে দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন, কানাডার অবহেলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ ও অর্থনীতি ক্ষতির মুখে পড়েছে। এর জেরে কানাডীয় পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
রয়টার্স জানিয়েছে, কানাডার বনাঞ্চলে চলমান দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় বায়ুদূষণ সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের ঘরে অবস্থানের পরামর্শ দিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অযথা দূষিত ও অস্বাস্থ্যকর বাতাসের শিকার হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, কানাডার ‘ইচ্ছাকৃত অবহেলা’ থেকে সৃষ্ট বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির বিষয়টি ভবিষ্যৎ ট্যারিফ নীতিতে বিবেচনায় নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে আলোচনা করবেন।
কানাডার জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী এলিনর ওলজেউস্কি অবশ্য বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দাবানলের ঝুঁকি মোকাবিলায় কানাডা সরকার ২০২০ সাল থেকে ১২ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার বিনিয়োগ করেছে। তিনি সীমান্তবর্তী অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় দুই দেশের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন এবং জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জানান।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার থম্পসন রিভার্স ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মাইক ফ্লানিগান বলেন, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে দাবানল ও চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পরই ট্রাম্প কানাডার বিরুদ্ধে শুল্কনীতি কঠোর করেছিলেন। আগামী রোববার অনুষ্ঠিতব্য ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে ট্রাম্প ও মার্ক কার্নির সম্ভাব্য বৈঠক নিয়েও আলোচনা চলছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ বছর কানাডার অন্টারিওতে সাড়ে ছয় লাখ একরের বেশি বনভূমি আগুনে পুড়ে গেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রেও দাবানলে প্রায় ৩৭ লাখ একর বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ন্যাশনাল ইন্টারএজেন্সি ফায়ার সেন্টার জানিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স।