গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরাইলি বাহিনীর একাধিক বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে আটজন নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে একটি জানাজার নামাজ ও দাফন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া অবস্থায় ড্রোন হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তথাকথিত যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও গাজায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির পরও নিয়মিতভাবে হামলা চালিয়ে চুক্তি লঙ্ঘন করছে ইসরাইল।
গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি এবং আল-আওদা হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায় একটি সমাবেশে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় আটজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, নুসেইরাত এলাকায় আগে নিহত এক ফিলিস্তিনির জানাজার পর মরদেহের খাটিয়া নিয়ে যাওয়ার সময় এই হামলা চালানো হয়। আহমেদ ইয়াসিন মসজিদের বাইরে অপেক্ষমাণ শোকাহত মানুষের ওপর ড্রোন থেকে বোমা ফেলা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ওই হামলার কথা স্বীকার করেছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে তারা জানিয়েছে, মধ্য গাজায় একটি ‘সন্ত্রাসী সেল’ লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের খবরের বিষয়েও তারা অবগত এবং তা পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে।
হামাস এই হামলার নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতেও ইসরাইল যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) নুসেইরাতের হামলা ছাড়াও গাজার বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটে। উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া এলাকায় আবু তামাম স্কুলের কাছে ড্রোন হামলায় ৫২ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। মধ্য গাজার আজ-জাওয়ায়দা এলাকায় হামলায় আরও একজন এবং নুসেইরাত শিবিরের পশ্চিমে আল-সাওয়ারহা এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রে গোলার আঘাতে আরেকজন নিহত হন।
এ ছাড়া গাজা সিটির একটি অ্যাপার্টমেন্টে ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং শিশুসহ কয়েকজন আহত হন। খান ইউনিসের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গুলিতে আহত এক নারীও পরে মারা যান।
আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা এসিএলইডির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার দাবি করা হলেও মে মাস থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলার তীব্রতা বেড়েছে। গত মাসে ৪০টির বেশি বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যা যুদ্ধবিরতির পর এক মাসে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইসরাইলি সংবাদপত্র হারেৎজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে গাজায় ২৭৪ জন ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। তবে এ তথ্যের বিষয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের আলাদা কোনো প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
সূত্র: আল-জাজিরা।