ভারতের বিহার রাজ্যের সিওয়ান জেলায় একটি বসতবাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) স্থানীয় পুলিশ নিশ্চিত করেছে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা আরও দুই ব্যক্তির মৃত্যুতে প্রাণহানির এই সংখ্যা পাঁচে পৌঁছায়। প্রাথমিক অনুসন্ধানের বরাতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জানিয়েছে, ওই বাড়িটিতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে আতশবাজি ও পটকা তৈরি করা হচ্ছিল।
পুলিশ নিহত পাঁচজনেরই পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ আমরুদ্দিন আহমেদ (৭০), তরুণ মুশকাল সিদ্দিকি (২০) এবং রাজকুমার ওরফে ভোলা (৩৫)। নিহতদের মধ্যে অত্যন্ত বেদনার বিষয় হলো দুই নিষ্পাপ শিশুও রয়েছে—দশ বছর বয়সী খুশবু সিদ্দিকি (১০) ও আট বছর বয়সী আরশাদ সিদ্দিকি (৮)। বিস্ফোরণের তীব্রতার পর ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত মরদেহগুলো সিওয়ান সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে, যেখানে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে।
সিওয়ানের পুলিশ সুপার (এসপি) ভারত সোনি গণমাধ্যমকে জানান, বিস্ফোরণস্থলের নিকটস্থ হাসপাতালে বর্তমানে এ ঘটনায় গুরুতর কোনো রোগী বা আহত ব্যক্তি ভর্তি নেই। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের তীব্রতায় আরও বেশ কয়েকজন সামান্য বা হালকাভাবে আহত হয়েছিলেন। পুলিশি ঝামেলা কিংবা আইনি ঝামেলার ভয়ে তারা সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা পুলিশকে কোনো তথ্য না দিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন। পুলিশ বর্তমানে সেই ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের অবস্থান ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার অনুসন্ধান চালাচ্ছে।
পুলিশ সুপার আরও উল্লেখ করেন, এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। আবাসিক এলাকায় বাজি তৈরির মতো মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরকের কাঁচামাল কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং কোন চ্যানেলে সরবরাহ করা হয়েছিল, তা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। এর পাশাপাশি বাড়িটিতে ঠিক কীভাবে অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের সূচনা ঘটল, কী পরিমাণ বিস্ফোরক মজুত রাখা হয়েছিল এবং নেপথ্যে কারা এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিল—তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্তাধীন রয়েছে।
সূত্র: জেলা পুলিশ প্রশাসন, সিওয়ান (বিহার)