স্পেসএক্সের বিশালাকার স্টারশিপ রকেট ১৪তম পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে প্রথমবারের মতো কক্ষপথে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। তবে মিশনের শেষ পর্যায়ে একটি ইঞ্জিনের ত্রুটির পর রকেটটি প্রশান্ত মহাসাগরে আছড়ে পড়ে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পরিচালিত এ পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের তথ্য রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
টেক্সাসের ব্রাউনসভিলের কাছে মেক্সিকো উপসাগরের স্টারবেস কমপ্লেক্স থেকে স্টারশিপটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এর প্রধান লক্ষ্য ছিল কক্ষপথে নতুন প্রজন্মের স্টারলিংক স্যাটেলাইট স্থাপন করা।
উড্ডয়নের পর একটি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জটিলতা দেখা দিলেও পরবর্তী সময়ে অন্য ইঞ্জিনগুলোর সহায়তায় রকেটটি প্রায় ২৬৯ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছায়। এরপর সফলভাবে ২৬টি স্টারলিংক ভি৩ স্যাটেলাইট নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপন করা হয়।
স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, ২৬টি স্টারলিংক ভি৩ বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটই লক্ষ্যমাত্রার কক্ষপথে সঠিকভাবে মোতায়েন হয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে। স্টারশিপের ইতিহাসে এটি প্রথম বাণিজ্যিক বা আয়-সৃষ্টিকারী ফ্লাইট।
একু পার্টস কম্পোনেন্টসের কোয়ালিটি ম্যানেজার ডিন স্ল্যাডেন এই অর্জনকে বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মিশনের শেষ ধাপে প্রশান্ত মহাসাগরে নিয়ন্ত্রিত অবতরণের প্রস্তুতি নেয় স্টারশিপ। থ্রাস্টারচালিত কৌশলের মাধ্যমে যানটিকে সোজা করা সম্ভব হলেও সমুদ্রের পানিতে স্পর্শ করার পর বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে এবং রকেটে আগুন ধরে যায়। তবে স্পেসএক্স আগে থেকেই রকেটটি সমুদ্র থেকে উদ্ধার কিংবা পুনর্ব্যবহারের পরিকল্পনা করেনি।
নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান নিরাপদ ও দায়িত্বশীল পদ্ধতিতে মিশন পরিচালনার জন্য স্পেসএক্সকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
এদিকে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই উৎক্ষেপণের পর স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার।
নতুন ভি৩ প্রযুক্তির স্টারলিংক স্যাটেলাইটগুলো আগের সংস্করণের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি ডেটা প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম। ২০২৩ সাল থেকে এই প্রযুক্তি উন্নয়ন কর্মসূচিতে স্পেসএক্স ১৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয় করেছে।
সূত্র: রয়টার্স।