সৌদি আরবে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে দেশটির প্রশাসন। গত এক সপ্তাহের অভিযানে ১৩ হাজার ৬২৮ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ হাজার ৬০০ জনের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
গালফ নিউজের প্রতিবেদনে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়, ১৭ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে পরিচালিত বিশেষ নিরাপত্তা অভিযানে এসব ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ হাজার ৫৯৩ জন আবাসন আইন, ৩ হাজার ৫৩১ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন এবং ৩ হাজার ৫০৪ জন শ্রম আইন লঙ্ঘন করেছেন। এছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে সৌদি আরবে প্রবেশের সময় ১ হাজার ১৯৯ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ইথিওপিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিক।
দেশটির আইন লঙ্ঘন করে সৌদি আরব থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় আরও ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শুধু বহিষ্কারের ব্যবস্থা নয়, প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহসহ দ্রুত ভ্রমণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এরই মধ্যে ১৮ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। তাদের জন্য ট্রাভেল পাস বা প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বর্তমানে ৩১ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিক বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন।
অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে সহযোগীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে সৌদি প্রশাসন। অবৈধ অভিবাসীদের চলাচলে সহায়তা, লুকিয়ে রাখা কিংবা আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে ২২ জন স্থানীয় সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশকারীদের সহায়তা করা, তাদের পরিবহনের ব্যবস্থা করা কিংবা বাড়ি বা অন্য কোনো স্থাপনায় আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ব্যবস্থাও রয়েছে।
এ ধরনের আইন লঙ্ঘনের ঘটনা চোখে পড়লে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্য সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি প্রশাসন।
সূত্র: গালফ নিউজ।