তৈরি পোশাকনির্ভর রপ্তানি কাঠামো থেকে বেরিয়ে পণ্য ও বাজারের বৈচিত্র্য বাড়াতে বিশ্বের ২০টি দেশকে সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে সরকার। এসব দেশে বাংলাদেশের নতুন পণ্য ও সেবা রপ্তানির সুযোগ, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর অবস্থান বিশ্লেষণ করে বাজারভিত্তিক কৌশল গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চিহ্নিত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জাপান, চীন, ভারত, কানাডা, বেলজিয়াম, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া, ইরান, ব্রাজিল, তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ফিজি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ‘বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণ কৌশল: ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য গন্তব্যে পণ্য ও বাজারের বৈচিত্র্য’ শীর্ষক কর্মশালায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে সম্ভাব্য বাজারগুলো নিয়ে সরকারের এ উদ্যোগের কথা জানা গেছে।
কর্মশালায় নির্বাচিত বাজারগুলোর সম্ভাবনা, বিদ্যমান বাধা, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগী দেশগুলোর অবস্থান এবং বাংলাদেশের করণীয় নিয়ে বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত রপ্তানি বহুমুখীকরণ কৌশলপত্র তৈরির পাশাপাশি প্রতিটি বাজারের জন্য পৃথক কৌশলপত্র প্রণয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিজিএমইএ, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), ওয়ালটন গ্রুপ, বাংলাদেশ অ্যাগ্রোপ্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতিসহ বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাঁরা আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণে নিজ নিজ খাতের বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।
কর্মশালা শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অন্যান্য সেবা খাতকে বৈশ্বিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক গন্তব্যগুলোকে সামনে রেখে সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করা হলে বাংলাদেশের রপ্তানি ভিত্তি আরও সম্প্রসারিত করা সম্ভব। একই সঙ্গে নতুন পণ্য ও বাজার সৃষ্টি, বিদ্যমান বাজারে অংশীদারত্ব বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদে বহুমুখী ও টেকসই রপ্তানি কাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।
বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানিকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে পণ্য ও বাজার—উভয় ক্ষেত্রের বৈচিত্র্যকরণকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণে পণ্যের পাশাপাশি সেবা রপ্তানির দিকেও সমান নজর দিতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি, দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতি ও সক্ষমতাবর্ধক সেবা খাতের বিকাশের পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সারদের উন্নয়নেও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে উৎপাদন ও সেবা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে ভৌগোলিক নৈকট্য ও বাজার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবা রপ্তানি বৃদ্ধির উদ্যোগ আরও জোরদার করা দরকার।