শিরোনাম :
স্বর্ণযুগের দুই কালজয়ী সারথি হেমন্ত-উত্তমকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাল ‘ঠুমরী’ জাতীয় পর্যায়ে ১০০ জন পাবেন গুণী শিক্ষক সম্মাননা সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ সাইবার সুরক্ষা আইন নিপীড়নমূলক হতে দেওয়া হবে না কৃষকরাই দেশ গড়ার যোদ্ধা: রাষ্ট্রপতি নারীদের জন্য আরও ১০০ পিংক বাস চালুর উদ্যোগ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর-লুট: আরও ছয় আসামি কারাগারে দখল-চাঁদাবাজি ঠেকাতে ব্যর্থতা সরকারের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৪ ডার্মস্টাট প্রিমিয়ার লিগের প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন ডার্মস্টাট ভাই-ব্রাদার্স

স্বর্ণযুগের দুই কালজয়ী সারথি হেমন্ত-উত্তমকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাল ‘ঠুমরী’

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলা চলচ্চিত্র ও সঙ্গীতের স্বর্ণযুগের দুই কিংবদন্তি মহানায়ক উত্তম কুমার ও কালজয়ী শিল্পী-সুরকার হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতির প্রতি ভালোবাসা ও গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনে সুরের আবেশে ভরা এক অনন্য সন্ধ্যার আয়োজন করেছে ‘ঠুমরী’। ‘সুস্থ সঙ্গীত, সুন্দর ভাবনা…’—এই শ্লোগানকে ধারণ করে ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার ধানমন্ডি ক্লাবের মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত হয় এই বিশেষ সঙ্গীত সন্ধ্যা। গান ও অভিনয়ের কালজয়ী যুগলের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের এই আয়োজন সঙ্গীতপ্রেমীদের মনে জাগিয়ে তোলে বাংলা শিল্প-সংস্কৃতির এক সোনালি অধ্যায়ের মায়াময় স্মৃতি।

৩ সেপ্টেম্বর ছিল বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবার্ষিকী। একই মাসের ২৬ তারিখ বাংলা গানের কিংবদন্তি শিল্পী ও সুরকার হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। এই দুই স্মরণীয় উপলক্ষকে কেন্দ্র করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় বাংলা চলচ্চিত্র ও সঙ্গীতের সেই দুই অমর শিল্পীকে, যাঁদের সৃষ্টিশীলতা বাঙালির সাংস্কৃতিক ভুবনকে করেছে সমৃদ্ধ ও চিরকালীন।

 

পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বাংলা চলচ্চিত্র ও সঙ্গীতের স্বর্ণযুগে উত্তম কুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায় তাঁদের অসামান্য প্রতিভা, শিল্পবোধ ও সৃষ্টিশীলতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। কখনো এককভাবে, আবার কখনো যৌথভাবে তাঁদের অবদান বাংলা গান ও চলচ্চিত্রকে দিয়েছে অনন্য উচ্চতা। উত্তমের অভিনয় ও হেমন্তের কণ্ঠের অপূর্ব মেলবন্ধন পর্দায় সৃষ্টি করত এক মায়াবী আবহ। মনে হতো, একই মানুষ যেন অভিনয় করছেন, আবার গানও গাইছেন। তাঁদের সেই শিল্পসমন্বয় দর্শক-শ্রোতার হৃদয়ে যে আবেগ ও ভালোবাসার জন্ম দিয়েছিল, তা আজও সময়ের সীমানা পেরিয়ে অমলিন হয়ে আছে।

সেই সোনালি দিনের সুর, আবেগ ও নান্দনিকতাকে নতুন করে অনুভব করার প্রত্যয়ে ‘ঠুমরী’র আয়োজনে সঙ্গীত পরিবেশন করেন আতিক বাবু ও আফসানা রুনা। তাঁদের কণ্ঠে পরিবেশিত গানের মধ্য দিয়ে ফিরে আসে বাংলা গানের স্বর্ণযুগের মাধুর্য, স্মৃতি ও অনুভব। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাহাঙ্গীর চৌধুরী।

গান ও অভিনয়ের এই কালজয়ী যুগলকে ঘিরে আয়োজিত সন্ধ্যাটি হয়ে ওঠে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সুরের এক হৃদয়ছোঁয়া মিলনমেলা। হেমন্তের কণ্ঠের মাধুর্য আর উত্তমের অভিনয়ের অনন্য আবেশকে স্মরণ করে ‘ঠুমরী’র এই আয়োজন যেন ছুঁয়ে যায় বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতির সেই চিরসবুজ অধ্যায়, যেখানে গান ও অভিনয় মিলেমিশে সৃষ্টি করেছিল এক অনির্বচনীয় সৌন্দর্য।

বাংলা চলচ্চিত্র ও সঙ্গীতের স্বর্ণযুগের স্মৃতি, আবেগ ও নান্দনিকতাকে ধারণ করে ‘ঠুমরী’র এই উদ্যোগ দুই কিংবদন্তির প্রতি ভালোবাসার এক সুরেলা নিবেদন হয়ে ওঠে। ‘সুস্থ সঙ্গীত, সুন্দর ভাবনা..’ – এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে আয়োজিত এমন অনুষ্ঠান বাংলা গানের ঐতিহ্য ও শুদ্ধ সঙ্গীতচর্চার প্রতি মানুষের ভালোবাসাকে আরও গভীর করে তুলবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংগীত সন্ধ্যার আয়োজন করে বাংলা সংগীতকে সজীব করে রাখবে-এমনই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন অনুষ্ঠানে আসা সঙ্গীতপ্রেমীরা।

ঠুমরীর সাধারণ সম্পাদক আফসানা রুনা বলেন, শখের জায়গা থেকে পরিপূর্ণ আত্মতৃপ্তির প্রত্যাশায় সংস্কৃতির সুস্থ ধারাকে এগিয়ে নিতে ‘ঠুমরী’ সংগঠনটি গড়ে তুলেছি। ২০১৯ সালের ২৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রথম আয়োজনটি নিবেদন করা হয় দুই বরেণ্য শিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ ও আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলকে। একই বছরের ১৯ জুলাই ‘ঠুমরী’র দ্বিতীয় আয়োজন ছিল নজরুল-রবীন্দ্রজয়ন্তী। ‘ঠুমরী’র পথচলায় বিভিন্ন সময়ে যারা সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

©germanbanglanews24
Developer Design Host BD