নরওয়ের রাজা পঞ্চম হারাল্ড ৮৯ বছর বয়সে মারা গেছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে অসলো ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। রাজপ্রাসাদের পক্ষ থেকে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
রাজপ্রাসাদের বিবৃতি অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাজা হারাল্ড। তাঁর মৃত্যুর পর রাজপ্রাসাদের ছাদে থাকা রাজকীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হয়।
বিরল ধরনের রক্তজনিত রোগের চিকিৎসার জন্য গত সপ্তাহে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। মৃত্যুর আগের ২৪ ঘণ্টায় রাজপরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। এদিকে রাজার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অসংখ্য মানুষ রাজপ্রাসাদের সামনে জড়ো হয়ে ফুল দিয়ে তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
পঞ্চম হারাল্ডের মৃত্যুতে নরওয়ের দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকের একটি রাজত্বের অবসান ঘটল। তিনি ছিলেন ১৪ শতকের পর নরওয়েতে জন্ম নেওয়া প্রথম রাজা। প্রায় ৩৫ বছর সিংহাসনে থাকার পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ৫৩ বছর বয়সি ক্রাউন প্রিন্স হাকন।
দীর্ঘ রাজত্বকালে হারাল্ড নরওয়ের অন্যতম জনপ্রিয় ও সংস্কারপন্থি রাজা হিসেবে পরিচিতি পান। রাজতন্ত্রকে সময়ের সঙ্গে আধুনিক করার পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কিছু প্রচলিত প্রথাতেও পরিবর্তন এনেছিলেন।
সাধারণ পরিবারের মেয়ে সোনজা হারাল্ডসেনকে বিয়ে করা তাঁর জীবনের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, যা নরওয়ের রাজপরিবারের প্রচলিত রীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে ওঠে। তাঁদের দাম্পত্য জীবন নরওয়ের রাজতন্ত্রকে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দেশের সংকট ও কঠিন সময়েও হারাল্ড জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছেন। তাঁর সহজ-সরল আচরণ, মানুষের প্রতি সহমর্মিতা এবং জনসাধারণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়।
রাজপর্যবেক্ষকদের অনেকেই তাঁকে ‘জাতির দাদু’ কিংবা ‘জনগণের রাজা’ হিসেবে বর্ণনা করতেন। ‘জনগণের রাজা’ অভিধাটি এর আগে তাঁর বাবা রাজা ওলাভ পঞ্চমের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়েছিল।
২০১১ সালে অসলো ও উটোয়া দ্বীপে ভয়াবহ বোমা হামলা ও বন্দুক হামলার পর নরওয়ে যখন গভীর শোক ও আতঙ্কে আচ্ছন্ন, তখন রাজা হারাল্ড জনগণকে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি নরওয়েজীয়দের ভয়কে নিজেদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে না দেওয়ার জন্যও সতর্ক করেছিলেন।
রাজা হারাল্ডের মৃত্যুতে নরওয়ের রাজপরিবারের পাশাপাশি দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যেও গভীর শোক নেমে এসেছে। তাঁর উত্তরসূরি ক্রাউন প্রিন্স হাকনের সামনে এখন দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় ও আধুনিক রাজতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দায়িত্ব।
সূত্র: বিবিসি।