শিরোনাম :
লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করলেন ট্রাম্প ৮৯ বছর বয়সে মারা গেলেন নরওয়ের রাজা পঞ্চম হারাল্ড বিদেশি উদ্ধারকারী দল নয়, নগদ সহায়তা চায় নেপাল সেপ্টেম্বর থেকে ফ্রান্সের হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ ভারতে বাংলাভাষী মুসলিম, দলিত ও রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ, দিল্লির প্রত্যাখ্যান সম্পাদকীয়:নারী ও শিশু নির্যাতন – রাষ্ট্র কি তার দায়িত্ব ভুলে যাচ্ছে! দেশ ও জনগণের স্বার্থই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: রাষ্ট্রপতি হিমালয়ে ভয়াবহ কাদা-পাথরের স্রোত, নেপাল-তিব্বতে নিখোঁজ ১,৫০০ জার্মানিতে স্থায়ী বসবাসের বড় সুযোগ: ৪ শ্রেণির বিদেশির জন্য সহজ শর্তে ‘স্থায়ী বসবাসের অনুমতি’ মায়েদের সম্পৃক্ততায় রান্না করা খাবার পাবে প্রাথমিকের শিশুরা: ববি হাজ্জাজ

ভারতে বাংলাভাষী মুসলিম, দলিত ও রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ, দিল্লির প্রত্যাখ্যান

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬

২৮ আগস্ট ২০২৬: ভারতে বাংলাভাষী মুসলিম, দলিত, তফসিলি জাতি, তফসিলি আদিবাসী ও রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা, হয়রানি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের বর্ণবৈষম্য বিলোপ কমিটি (ইউএনসিইআরডি)। এসব জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইউএনসিইআরডি জানায়, ভারতে বিপুলসংখ্যক মানুষের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে তফসিলি আদিবাসী, তফসিলি জাতি, দলিত, বাংলাভাষী মুসলিম এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি বৈষম্য ও নির্যাতনের অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন প্রকাশের পরদিন বুধবার এর তীব্র সমালোচনা করেছে ভারত। জাতিসংঘে ভারতের মিশন ইউএনসিইআরডির পর্যবেক্ষণ প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবেদনটিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এবং ‘বিদ্বেষপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছে।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউএনসিইআরডির পর্যবেক্ষণে ২০১৭ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি আদেশ এবং ২০২৫ সালের কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পরবর্তী পরিস্থিতির উল্লেখ রয়েছে। কমিটির দাবি, এসব ঘটনার পর রোহিঙ্গা, বাংলাভাষী মুসলিম, অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের লক্ষ্য করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান, আটক ও হয়রানির ঘটনা বেড়েছে।

জাতিসংঘের কমিটির প্রতিবেদনে জাতিগত বিদ্বেষ থেকে সংঘটিত সহিংসতা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে আটক, নির্যাতন, দুর্ব্যবহার এবং যৌন সহিংসতার মতো গুরুতর অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে ইউএনসিইআরডি। একই সঙ্গে যেসব জনগোষ্ঠী বৈষম্য ও নিপীড়নের ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের মৌলিক অধিকার এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইউএনসিইআরডি ১৮ জন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত একটি জাতিসংঘের কমিটি। জাতিগত বৈষম্য বিলোপ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলো ওই সনদের বিধান কতটা বাস্তবায়ন করছে, তা পর্যবেক্ষণ করাই এ কমিটির অন্যতম দায়িত্ব। ১৯৬৯ সালে কার্যকর হওয়া ওই সনদে বর্ণবৈষম্য বিলোপ, সামাজিক পৃথকীকরণ বন্ধ এবং আইনের দৃষ্টিতে সবার সমতা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো নিয়েও উদ্বেগ

প্রতিবেদনে ভারতে জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে রাস্তায় মানুষকে থামিয়ে তল্লাশি ও আটকের অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কমিটির মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই গ্রেপ্তার, আটক ও নির্যাতনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের এই কমিটি। কোনো জনগোষ্ঠীকে সম্মিলিতভাবে দেশ থেকে বহিষ্কার না করার পাশাপাশি বৈষম্য, বর্ণবাদী বক্তব্য ও ঘৃণামূলক অপরাধ প্রতিরোধে ভারতকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য স্ক্রলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউএনসিইআরডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ২০১৭ সালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশে রোহিঙ্গাসহ বৈধ কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশনার বিষয়টি ছিল।

এদিকে ২০২৫ সালের এপ্রিলে পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার কয়েক সপ্তাহ পর ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে আসা ‘সন্দেহভাজন নথিবিহীন’ অভিবাসীদের পরিচয় যাচাইয়ের নির্দেশ দেয়।

এরপর মে মাসে বিজেপিশাসিত কয়েকটি রাজ্যে বাংলাভাষী, বিশেষ করে মুসলিমদের আটক করে তাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ চাওয়ার অভিযোগ ওঠে। নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে কয়েকজনকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তী সময়ে কিছু ঘটনায় আদালতের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ওই ব্যক্তিদের ভুলভাবে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল। এরপর সংশ্লিষ্ট রাজ্য কর্তৃপক্ষ তাঁদের আবার ভারতে ফিরিয়ে নেয়।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনের বিষয়ে বুধবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ইউএনসিইআরডির পর্যালোচনা বৈঠকে ভারত তার সাংবিধানিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, আইনি কাঠামো, বহুত্ববাদ এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেছে।

তিনি জানান, নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভারত কমিটির পর্যবেক্ষণের জবাব দেবে। তবে পর্যালোচনা বৈঠকের সময়ই সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার নেতৃত্বাধীন আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রতিনিধিদল ‘ঢালাও মন্তব্য’, ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ’ এবং জাতিগত বৈষম্য বিলোপ সনদের এখতিয়ারবহির্ভূত যেকোনো প্রবণতা প্রত্যাখ্যান করেছে।

সূত্র: জাতিসংঘের বর্ণবৈষম্য বিলোপ কমিটি (ইউএনসিইআরডি), এএফপি ও দ্য স্ক্রল।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

©germanbanglanews24
Developer Design Host BD