এ.এম. উবায়েদ (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দামিহা ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামে জলমহালকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মাঝে ব্যাপক সংঘর্ষে অর্ধ শতাধিক আহত হয়েছে।
জানা যায়, গজারিয়া গ্রামে দামিহা জলমহাল নিয়ে ইউপি সদস্য সবুজ মিয়া ও এরশাদ উদ্দিনের মাঝে দীর্ঘদিন যাবৎ সংঘর্ষ চলে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত থেমে থেমে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।
তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, বিকাল ৪ টায় গজারিয়া গ্রাম থেকে নৌকা ও অটোরিক্সা দিয়ে আহত লোকজনদেরকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এখন পর্যন্ত অর্ধশত আহত রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। গুরুতর আহত ৪-৫ জনকে কিশোরগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। ১৫ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ইমরান (৩০), আরমান (২৮), আলমগীর হোসাইন (৩০), নুরুল হক (৩৪), তারা মিয়া (৫০), রফিকুল ইসলাম (৩০), নুর ইসলাম (৬৬), জহুর মিয়া (৩৯), আবু কালাম (২৮), শফিকুল (৩৫), আক্কাস (৫০), জিয়াউল হক (৩৫), মোতাহার (৩২) প্রমুখ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে। আরো জানা যায়, সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে গজারিয়া গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করা হচ্ছে।
উপজেলার দামিহা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য সবুজ মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এরশাদ উদ্দিন তার দলবল নিয়ে বে-আইনীভাবে দামিহা জলমহালটি তার আয়ত্তে নেয়ার চেষ্টা করে আসছে বহুদিন যাবৎ। এরশাদ উদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, দামিহা জলমহালটি বৈধ ভাবেই আমাদের দখলে। কিন্তু ইউপি সদস্য সবুজ মিয়া ক্ষমতাবলে তার আয়ত্তে নেয়ার চেষ্টা করছে। এ নিয়ে কথা হলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. বদরুল হাসানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, জলমহাল নিয়ে সংঘর্ষে অর্ধশত আহত রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। কয়েক জনকে জেলা সদর হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চৌধুরী মিজানুজ্জামানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, দামিহা জলমহাল নিয়ে সংঘর্ষের বিষয়টি নিয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা হয় নাই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।