স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর বিষয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদকে সুপারিশ করেছে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)। একই সুপারিশ করা হয়েছে নেপালের ক্ষেত্রেও। এখন বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ইকোসকের এক বৈঠকে সদস্য রাষ্ট্রগুলো সর্বসম্মতিক্রমে এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর আবেদন সাধারণ পরিষদের বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেপালের পক্ষে বক্তব্য দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। তিনি বলেন, এলডিসি থেকে মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত প্রস্তুতিকাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি আরও সুসংহত করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং উন্নয়ন সহযোগিতার পরিবর্তিত বাস্তবতায় প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময় উভয় দেশের জন্যই প্রয়োজনীয়।
এর আগে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) বাংলাদেশ ও নেপালের আবেদন পর্যালোচনা করে মত দেয় যে, বিষয়টি সাধারণ পরিষদে বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা সমীচীন হবে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই ইকোসক সাধারণ পরিষদকে আগামী ২৪ নভেম্বর ২০২৬-এর আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমানে ওই দিনই বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরণের সময় নির্ধারিত রয়েছে।
সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার পর রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বাংলাদেশের টেকসই উত্তরণে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সাধারণ পরিষদ যদি প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করে, তবে বাংলাদেশ সেই সময়কে সর্বোচ্চ কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এলডিসি-পরবর্তী সময়ের জন্য দেশের প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধি পেলে বাণিজ্য সুবিধা, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ অতিরিক্ত সময় পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন