পদ্মা ইয়ূথ ইনেসিয়েটিভ, ঝিনাইদহের পক্ষ থেকে আইন বহির্ভূত ভাবে তামাক কোম্পানীর অবৈধ হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পদ্মা ইয়ূথ ইনেসিয়েটিভ, ঝিনাইদহ পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে প্রধান সমন্বয়ক মো: হাবিবুর রহমান বলেন তামাক বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধক। বাংলাদেশ বিশ্বেরসবচেয়ে বেশি তামাক ব্যবহারকারী দেশগুলোর মধ্যে একটি। দেশের প্রাপ্ত বয়স্কদের এক তৃতীয়ংশ তামাক ব্যবহার করে।
তামাক জনিত রোগের কারণে প্রতি বছর ১ লক্ষ ৬০ হাজার মানুষ মৃত্যু বরন করেছে, যা ঐ বছরের মোট মৃত্যুর ১৩.৫%। বাংলাদেশে ৯৯% শিশু সেকেন্ডহ্যান্ড স্মোকিংবাপরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছে। বর্তমানেজনগোষ্ঠির ৫৯% বয়সেতরুণ। বাংলাদেশে ১৩-১৫ বয়সেরশিশু-শোরদেরমধ্যে তামাক ব্যবহারকরে ৯.২%। অন্যদিকে ২০১৭ হতে ২০১৮ অর্থ বছরে তমাক ব্যবহারের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছিল ৩০ হাজার ৫৭০ কোটিটাকা, যাজিডিপিরপ্রায় ১.৪%ছিল।
বাংলাদেশে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যরব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ বিদ্যমানরয়েছে। উক্ত আইনেরধারা (৫)-এ তামাকজাত দ্রব্যর বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা নিষিদ্ধ এবং পৃষ্ঠপোষকা নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত বিধানেতামাক দ্রব্যের বিজ্ঞাপন প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তামাকজাত দ্রব্যে বিক্রয়ে কোন ধরনে প্রলুব্ধ করণ কাজ নিষিদ্ধ করাআছে। সিএসআরনামে কোনধরণের প্রচারণাকরা যাবেনা, সেটি উল্লেখ করা আছে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে এ সমস্তবিষয় ককর্মকান্ড সুস্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণাকরা থাকলেওআইন লঙ্গন করেতামাক কোম্পানী গুলিপ্রতিনিয়ত এই কর্মকান্ডগুলি করেযাচ্ছে। যাসুস্পষ্টভাবে অপরাধ মূলক কার্যক্রম হিসেব বিবেচিত। তারাতামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে প্রতিনিয়ত আইন লঙ্গন করেযাচ্ছে। এভাবে আইন লঙ্গন করার দূঃসাহস তামাক কোম্পানী গুলি কোথায়পাচ্ছে। এটাআমাদেরকাছেএকটি বিষ্ময়করভাবনা। একি সাথে এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হওয়াতে আমরা হতাশা বোধ করছি। বর্তমানের সিগারেটের বিকল্প হিসাবে কম ক্ষতিকর এই প্রচরণার মাধ্যমে ই-সিগারেট বাজারজাতকরণ করা হচ্ছে। এরপ্রধান ভোক্তা দেশের কিশোর তরুনসমাজ। প্রকৃত অর্থে ই-সিগারেট এবং সিগারেটের মধ্যে কোন পার্থ্য নাই। উভয় মানব দেহে একই ধরনের ক্ষতি করে। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের মতে, ই-সিগারেট ধূমপান ছাড়তে সাহায্যে করে এর কোন প্রমান এখন পাওয়া যায়নি।বরং কোন কোন ক্ষেত্রে এর প্রভাব সাধারণ সিগারেটের চেয়েও ক্ষতিকারক।
ই-সিগারেটের তরল মিশ্রণের মধ্যে থাকে (ই-লিকুইড) প্রোপেলিনগ্লাইসল, গ্লীসারিন, পলিইথিলিনগ্লাইসল, নানাবিধ ফেলাভার এবং নিকোটিন।গরম হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই রাসায়নিক গুলো থেকে সাধারণ সিগারেটের ধোয়ার সমপরিমান ফরমালডিহাইড উৎপান্ন হয়। এর ধোয়ায় এমন কিছু উপাদান আছে, যে গুলো থেকে ক্যান্সার হওয়ার যথেষ্ট আশংকা রয়েছে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে। সাধারণসিগারেটের চেয়েই-সিগারেট দশগুন বেশি ক্ষতি কারক।সবচেয়ে বড় কথাই-সিগারেট দিয়ে ধূমপান কখন ছাড়াযায় না।
তামাক কোম্পানী গুলি অবৈধ হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ই-সিগারেটের বাজার তৈরী করছে দেশে। বিবৃতিতে দেশের জনস্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থে কর্মক্ষমতরুনসমাজ গঠনের লক্ষ্যে বিদ্যমান আইন লঙ্গন করে তামাক কোম্পানীর অবৈধ হস্তক্ষেপ বন্ধ করার লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়। এসডিজি-৩ লক্ষ অর্জন করতে হলে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের যথাযথা প্রয়োগ নিশ্চিত করতে না পারলে অভিষ্টলক্ষ্যে পৌঁছানো অসম্ভব ব্যাপার হবে। এ বিষয়ে অনতিবিলম্বে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে।