গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর চালানো হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন। মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুদের লক্ষ্য করে পরিচালিত এসব হামলা চলমান সংঘাতের একটি ভয়াবহ দিক, যা যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের শামিল হতে পারে।
কমিশনের তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে গাজায় নিহতদের একটি বড় অংশই শিশু। কমিশনের হিসাবে, মোট নিহতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি শিশু রয়েছে।
কমিশনের চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন মুরালিধর বলেন, সংগৃহীত তথ্য থেকে বোঝা যায় যে, শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং তা ধারাবাহিকভাবে সংঘটিত হয়েছে। তিনি যুদ্ধবিরতির সময়কালেও শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রসূতি ও শিশুস্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং খাদ্য ও চিকিৎসাসেবার সংকটের কারণে গাজার শিশুদের জীবন আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ইউনিসেফের তথ্য অনুসারে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৫০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি শিশু নিহত বা আহত হয়েছে। পাশাপাশি আটক শিশুদের ওপর বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।
কমিশন শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।
তবে ইসরায়েল এই প্রতিবেদনকে পক্ষপাতদুষ্ট আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং দাবি করেছে, এতে হামাসের কর্মকাণ্ডের বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে।
সূত্র: জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন, ইউনিসেফ ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।