জর্জিয়ার রাজধানী তিবিলিসিতে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ পাবলিক সার্ভিস ফোরাম ২০২৬-এর উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক, জবাবদিহিমূলক এবং নাগরিকবান্ধব ডিজিটাল সরকার গঠারে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) সম্প্রসারণ, সরকারি সেবায় জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের চলমান উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের কাছে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়নের বিষয় নয়; এটি সুশাসন প্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর মাধ্যম। তিনি বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন নাগরিকও যেন রাজধানীর মানুষের মতো সমানভাবে সরকারি সেবা সহজে ও দ্রুত পেতে পারেন, সেটিই সরকারের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার একটি ‘ডিজিটাল-ফার্স্ট’ সরকার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে প্রযুক্তির মাধ্যমে সরকারি সেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও নাগরিকমুখী করা হবে।
ফকির মাহবুব আনাম জানান, বর্তমানে নাগরিকরা সরকারি ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘একপে’ (EkPay), ‘মাইগভ’ (myGov) অ্যাপ, জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং ৩৩৩ হেল্পলাইন ব্যবহার করে একই ধরনের সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরকারি সেবাকে একীভূত ও সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের সব মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত ইন্টারনেট সংযোগ এবং স্মার্ট ডিভাইস নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এর মাধ্যমে ডিজিটাল বৈষম্য কমিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারি সেবায় জনগণের অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতা বাড়াতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ক্যাবিনেট ডিভিশনের গ্রিভেন্স রিড্রেস সিস্টেম (GRS) এবং ই-পার্টিসিপেশন (e-Participation) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নাগরিকরা সরাসরি অভিযোগ, পরামর্শ ও মতামত জানাতে পারছেন।
এছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবার মান ও জবাবদিহিতা মূল্যায়নে ভবিষ্যতে ‘ই-পার্টিসিপেশন র্যাংকিং’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
সূত্র: ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।