বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনায় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে চীন। বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন।
শুক্রবার (২৬ জুন) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান হিসেবে বাংলাদেশ বরাবরই স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে।
মাহদী আমিনের ভাষ্য, চীন জানিয়েছে—বাংলাদেশ যখনই মিয়ানমারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে চাইবে, তখন বেইজিং সেই সংলাপ সহজ করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও মধ্যস্থতামূলক ভূমিকা পালন করবে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের যে অভিজ্ঞতা ছিল, বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতায় আবারও কার্যকর আলোচনা এগিয়ে নিতে আগ্রহী।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্বল নীতিগত অবস্থান ও শাসনব্যবস্থার কারণে রোহিঙ্গা সংকট আরও গভীর হয়েছে। এর ফলে বিষয়টি এখন বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, সংকট নিরসনে বাংলাদেশ নিজস্ব কূটনৈতিক উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেবে এবং চীনের সহযোগিতায় মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে ফলপ্রসূ সংলাপের মাধ্যমে প্রত্যাবাসনের পথ এগিয়ে নিতে কাজ করবে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতিমালা অনুসরণ করে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র গ্রহণযোগ্য সমাধান।
সূত্র: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।