মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও অবশেষে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) পজিটিভ এসেছে। ১ অক্টোবর দিবাগত রাতে ট্রাম্প একটি টুইট বার্তায় নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, আজ রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি এবং আমি কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছি। আমরা অবিলম্বে আমাদের কোয়ারেন্টাইন এবং সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করব। এর আগে আরেকটি টুইট বার্তায় কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
১ অক্টোবর মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয় যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ উপদেষ্টা হোপ হিকস করোনায় আক্রান্ত। জানা গেছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর ডোনাল্ড ট্রাম্প টিভি বিতর্কে অংশ নেওয়ার জন্য ওহাইওতে যান। সেখানে ট্রাম্পের সফরসঙ্গী ছিলেন হোপ হিকস। শীর্ষ উপদেষ্টার আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়ার পরই করোনা পরীক্ষা করান ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্প।
এদিকে অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বে আবারও করোনার সর্বগ্রাসী সংক্রমণ শুরু হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। দ্বিতীয় দফা সংক্রমণে ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুধু যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন ৩ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় মারা যাবে। জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে বর্তমানে প্রতিদিন ৪০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার মানুষ নতুনভাবে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে এবং ৭৬৫ থেকে ৮০০ জন মারা যাচ্ছে। কিন্তু অক্টোবর থেকে আবারও করোনার সর্বগ্রাসী সংক্রমণ শুরু হলে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা হু হু করে বাড়বে। আর ডিসেম্বরের শেষ দিকে আমেরিকায় প্রতিদিন ৩ সহস্রাধিক মানুষ মারা যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ড. ক্রিস মুরে।
ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশনের (আইএইচএমইর) পরিচালক ড. ক্রিস মুরে বলেন, করোনার প্রথম দফা ধ্বংসযজ্ঞ শেষ না হওয়ার আগেই অক্টোবরে শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ। অক্টোবর থেকে করোনার নতুন সংক্রমণ দিনে দিনে বাড়বে এবং নভেম্বর-ডিসেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। আর ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে করোনা এতই ভয়াবহ আকার ধারণ করবে যে প্রতিদিন ৩ হাজারের বেশি আমেরিকান প্রাণ হারাবে।
জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করোনায় মোট ৭১ লাখ আক্রান্ত এবং ২ লাখ ৬ হাজার জন মারা গেছে। বর্তমানে আমেরিকার মাত্র ১০টি স্টেটে করোনার সংক্রমণ সামান্য কমেছে, কয়েকটি স্টেটে অপরিবর্তিত রয়েছে এবং হার্টল্যান্ড ও মিডওয়েস্টের ২৪টি স্টেটে নতুনভাবে সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। নিউইয়র্ক বিশেষত নিউইয়র্ক সিটিতেও করোনার সংক্রমণ আবারও বেড়েছে।
সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে ক্যালিফোর্নিয়ায় করোনা ভাইরাসে ৮ লক্ষাধিক লোক আক্রান্ত হয়েছে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে আমেরিকায় করোনা ভাইরাসে যত লোক আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন তার ৪০ শতাংশই হচ্ছেন ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস এবং জর্জিয়ার বাসিন্দা। নিউজার্সিতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ৭৬০ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট ২ লাখ ৪ হাজার জন আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন গভর্নর ফিল মার্ফি।
৯০ শতাংশ আমেরিকানই করোনায় আক্রান্ত : আমেরিকার ২৪টি স্টেটে করোনার সংক্রমণ নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ায় সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের পরিচালক রবার্ট রেডফিল্ড আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে সম্ভবত ৯০ শতাংশ আমেরিকানই করোনায় আক্রান্ত। ড. রেডফিল্ড বলেন, করোনা পরীক্ষার মন্থর গতির কারণে আমেরিকার মোট জনগোষ্ঠীকে করোনা টেস্টিংয়ের আওতায় আনা যাচ্ছে না। তাই করোনায় আক্রান্তের সঠিক সংখ্যাও নির্ধারণ করা যাচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। তিনি করোনা টেস্টিংয়ে গতি সঞ্চার এবং সর্বসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। হোয়াইট হাউস করোনাভাইরাস টাস্ক ফোর্স সমন্বয়ক ড. ডেবোরাহ বাইরক্স অভিযোগ করেছেন যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে টাস্ক ফোর্সে নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়া ড. স্কট এটলাস মাস্কের ব্যবহার সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিপথগামী করছেন।