রাইসুল আলম রবিন, খুলনা প্রতিনিধি: অনেক জল্পনা কল্পনার পরে অবশেষে বুধবারের মধ্যে বকেয়া পাওনা পেতে যাচ্ছে খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত ৯ পাটকলসহ বিজেএমসির আওতাধীন ২৬ পাটকলের শ্রমিকরা। বিজেএমসির চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ নাছিম এ কথা জানিয়েছেন। পাট খাতকে ভাল অবস্থানে নিতে শ্রমিক ম্যানেজম্যান্ট সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ নাছিম জানিয়েছেন, আজ যেকোনো সময় অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বিজেএমসির হিসাবে শ্রমিক কর্মচারীদের এপ্রিল পর্যন্ত বকেয়া পাওনা ও বোনাসের অর্থ ছাড় দিতে পারে। বিজেএমসির হিসাবে ঢোকার পর সেখান থেকে ২৬ পাটকলের হিসাবে পাঠানো হবে। এক্ষেত্রে জরুরিভাবে কাজ করবে বিজেএমসির হিসাবসহ সকল বিভাগ। হাতে পাবার পর যত দ্রুত সম্ভব শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা তাদের স্ব স্ব অ্যাকাউন্টে দেওয়ার জন্য সদা প্রস্তুত বিজেএমসি। তবে পাটকলের এ অবস্থা হতে উত্তরণ করতে শ্রমিক কর্মকর্তা সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করতে হবে। ধৈর্য ধরে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে পাট খাত আবার তার সোনালী অতীতে ফিরতে পারবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
এদিকে খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত ৯ পাটকলের শ্রমিকরা ৪ দফায় সর্বশেষ টানা ১৬ দিন ধর্মঘট, প্রতিদিন ৪ ঘন্টা আন্দোলন করে অবশেষে গত ২১ মে খুলনা জেলাপ্রশাসকের কার্যালয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে তিন চুক্তিতে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেয়। বর্তমান সাধারণ শ্রমিকরা দীর্ঘদিনের মজুরি না পেয়ে এ রোজার মাসে কোনোভাবে বেঁচে আছে বলে জানান ক্রিসেন্ট জুট মিলের শ্রমিক সেলিম হাওলাদার। তিনি আরও জানান, মজুরি কমিশন দেওয়ার কথা বলেও কেন যে এত সময় নিচ্ছে সেটা তারা বুঝতে পারছেন না। অবিলন্বে তাদের মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করার দাবি জানিয়েছেন।
পাটকল শ্রমিক লীগের খুলনা-যশোর অঞ্চলের সভাপতি মোঃ মুরাদ হোসেন জানান, শ্রমিকদের বড় চাপের মুখে আছেন তারা। মজুরি কমিশন কবে দিবে, বকেয়া মজুরি কবে দিবে শ্রমিকদের এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে হাফিয়ে উঠছি। শুনেছি মঙ্গল অথবা বুধবারে বকেয়া মজুরি পাবার কথা। তবে হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এখন আর বিশ্বাস করতে পারছিনা বলে জানান তিনি।
খালিশপুর জুট মিলের প্রকল্প প্রধান মোস্তফা কামাল জানান, তারা সদা প্রস্তুত তাদের হিসাবে টাকা ঢোকার সাথে সাথে শ্রমিক কর্মচারীদের টাকা পরিশোধ করবেন।
স্টার জুট মিলের প্রকল্প প্রধান শাওন মাহমুদ জানান, তার হিসাব বিভাগকে তিনি প্রস্তুত রেখেছেন। তাদের হিসাবে টাকা ঢোকার সাথে শ্রমিক কর্মচারীদের পাওনা যেন দ্রুত তাদের হিসাবে দেওয়া হয়। তবে যাই হোক সরকার শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সকল দপ্তরকে জোর তাগিদ দিয়েছেন। তারা সেভাবে তড়িঘড়ি করে কাজ করছে বলে জানা গেছে।