শিরোনাম :
নবারুণ অরুণ প্রভায় জাপানে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব: শামা ওবায়েদ বিহারের সিওয়ানে বাজি তৈরির কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: দুই শিশুসহ নিহত বেড়ে ৫ ফিলিপাইনে প্রশিক্ষণের সময় মাঝআকাশে দুই সামরিক বিমানের সংঘর্ষ, ৪ পাইলট নিহত বিশ্ব শান্তিরক্ষা ও সমন্বিত অগ্রযাত্রায় চীনের ‘নতুন দীর্ঘ মার্চ’ বিশ্বমঞ্চে ইতিবাচক চালিকাশক্তি চীন-কেনিয়া দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্বে নতুন গতি: সিএমজির বিশেষ সাক্ষাৎকারে স্পিকার সম্পাদকীয় : লাগামহীন নিত্যপণ্যের বাজার: সাধারণের দীর্ঘশ্বাস ও কাঠামোগত ব্যর্থতা দিল্লি পুলিশের শান্তি মুচলেকায় সই করতে অস্বীকৃতি আইসা সভানেত্রী নেহা বোরার পাঁচ বছরে পেনশন ব্যয় দ্বিগুণের শঙ্কা: চাঁদাভিত্তিক ব্যবস্থার সুপারিশ বেতন কমিশনের বৈশ্বিক সাইবার ঝুঁকির সতর্কতায় টানা ৩ দিন বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট

গাইবান্ধার রেহেনা পেয়েছেন বিভাগীয় সম্মাননা

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০১৯

বায়েজীদ ( গাইবান্ধা- পলাশবাড়ী) জার্মান বাংলা :গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের উত্তর আনালেরতাড়ী গ্রামের রেহেনা বেগম,সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন।১৯৭৫ সালে সদর উপজেলার কুপতলা ইউনিয়নের চাঁপাদহ গ্রামের পাঁচজুম্মা এলাকায় দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহন করেন রেহেনা। বাবা রহিম উদ্দিন দিনমজুর, মা আয়শা গৃহিনী।

বাবার পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে পড়ালেখা শেষ করতে পারেননি তিনি। দশম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ১৬ বছর বয়সে তাকে বিয়ের পিড়িতে বসতে হয় একই উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের উত্তর আনালেরতাড়ী গ্রামের মৃত-মুনছুর আলীর ১ম পুত্র রেজাউন্নবীর সাথে।

অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে আসে কন্যা সন্তান। ফলে বেকার স্বামীর সংসারে তাকে পড়তে হয় মহা সমস্যায়। একে একে তাদের ঘরে আসে ৪ সন্তান। এদের মধ্যে ৩ মেয়ে, ১ ছেলে। সন্তানদের সকলকেই গ্রাজুয়েশন করিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে ৩ মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন।
বাকী রয়েছে এখন শুধু ছেলে। তাকেও বিয়ে দেওয়ার জন্য মেয়ে খুঁজছেন।

একজন নিষ্ঠাবান, ভালো সংগঠক, ভালো উদ্যোক্তা, নির্ভিক, সমাজসেবী এবং আত্মপ্রত্যয়ী, বিনা খরচে যক্ষা ও ডায়াবেটিস এবং গর্ভবতী মায়ের চিকিৎসায় সহায়তা করেন তিনি।

এছাড়া একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৯০টি দরিদ্র পরিবারকে ১ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়ে দূর্যোগ মোকাবেলায় ভূমিকা, সামাজিক কুসংস্কার, অনাচারসহ বিভিন্ন বিষয়ের বিরুদ্ধে জনসচেতনা সৃষ্টি, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, যৌতুক, নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখায়, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশব্যাপি পরিচালিত “জয়িতা অম্বেষণে বাংলাদেশ” শীর্ষক কার্যক্রমের আওতায় এ সম্মাননা পান তিনি। শত নির্যাতন এবং প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় ক্যাটাগরিতে তিনি এই পুরুষ্কার পান।

এত সমস্যার মধ্যে আপনি সমাজের উন্নয়নে এতকাজ করলেন কীভাবে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মানুষের ইচ্ছা শক্তি থাকলে কোন কিছুই অসম্ভব নয়।

তিনি আরও জানান, স্বামীর সংসারে অভাব অনটনের মধ্যে থেকে নিজস্ব উদ্যোগে হাঁস-মুরগী পালন করে সঞ্চিত অর্থদিয়ে সেলাই মেশিন ক্রয় করেন। পরবর্তীতে ৬৬ শতাংশ জমি বন্ধক নেন এবং ৩০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন।

এছাড়া ১ম বারেই ওই জমির ফসল বিক্রি করে আরও ২০ শতাংশ সবজির জমি বন্ধক নেন। এরপর তাকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন তার রয়েছে মোট ৪ বিঘা নিজস্ব জমি । আর এ সবের সঞ্চিত অর্থ দিয়েই সন্তানদের লেখাপড়া ও বিয়ে দিয়েছেন।

জয়িতা, রেহেনা বেগমের এখন একটাই স্বপ্ন বাড়িতে একটি চিকিৎসা কেন্দ্র খুলবেন। কিন্তু এরজন্য তার স্বামী তাকে সহায়তা করেনা বলেও জানান প্রতিবেদককে। তিনি আরও বলেন আপনারা যদি আমার স্বামীকে রাজি করিয়ে আমাকে একটি চিকিৎসা কেন্দ্র দেয়ার ব্যবস্থা করে দেন তাহলে আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো। আমার আর কোন চাওয়া পাওয়া নেই।

রেহেনা বেগমের স্বামী নুরুন্নবীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, তার স্ত্রী রেহেনা বেগম সারাক্ষণ মানুষের কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকেন তিনি। যত রাতই হোক কোন গর্ভবতী মায়েরা তাকে ডাকলে তিনি ছুটে যান সেখানে। এরপরও যদি তাকে বাড়িতে চিকিৎসা কেন্দ্র খুলে দেই তাহলে সে আরও ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। তাই তাকে চিকিৎসা কেন্দ্র খুলতে দিচ্ছি না।

তবে আপনারা যখন দিতে বলছেন তাহলে এবার চেষ্টা করবো। তিনি আরও বলেন রেহেনা বেগম ইতোমধ্যে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে অনেক সম্মাননা পেয়েছে। এজন্য মাঝে মাঝে ওর জন্য গর্ববোধ হয় ।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD