সহকারী শিক্ষকদের এন্ট্রিপদে ১১তম গ্রেড প্রদান, শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি এবং উচ্চতর গ্রেড প্রদানের জটিলতা নিরসনের দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম তোতা, কর্মসূচি ঘোষণা করেন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি আনিসুর রহমান এবং লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাহিনুর আল আমিন।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সারাদেশে প্রায় তিন লাখ ৮০ হাজার সহকারী শিক্ষক নিষ্ঠার সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষায় অবদান রাখলেও তারা দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক ও মর্যাদাগত বৈষম্যের শিকার। বর্তমানে একজন সহকারী শিক্ষক ১৩তম গ্রেডে মাত্র ১১ হাজার টাকা মূল বেতন পাচ্ছেন, যা জীবনযাপনের জন্য অপ্রতুল।
সংগঠনের মূল তিন দাবি হলো—
১. সহকারী শিক্ষকদের এন্ট্রিপদে ১১তম গ্রেড প্রদান।
২. ১০ ও ১৬ বছরের উচ্চতর গ্রেড প্রদানের জটিলতা নিরসন।
৩. শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে দ্রুত পদোন্নতি বাস্তবায়ন।
সংবাদ সম্মেলনে আনিসুর রহমান জানান, যদি আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণ না হয়, তাহলে তারা পর্যায়ক্রমে কর্মবিরতি, অবস্থান কর্মসূচি এবং অনশন পালন করবেন।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী-
২৩ ও ২৪ নভেম্বর অর্ধদিবস কর্মবিরতি,
২৫ ও ২৬ নভেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি,
২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান,
এবং দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে ১১ ডিসেম্বর থেকে পরীক্ষা বর্জন ও আমরণ অনশন শুরু হবে।
বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আগের আন্দোলন স্থগিত করা হলেও এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত ন্যায়সঙ্গত দাবিগুলো বাস্তবায়ন করবে।