মোঃ রাসেল আহম্মেদ, (লিসবন,পর্তুগাল)।।দিনব্যাপী ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন পর্তুগাল নর্থ এর উদ্যোগে, পর্তুগালের র্পোতো নগরীতে প্রথমবারের মত মহা ধুমধামে বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সমগ্র পর্তুগালের বাংলাদেশী কমিউনিটির মানুষের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে।
লিসবন সহ পর্তুগালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর থেকে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী মানুষ এতে অংশগ্রহণ করে। স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি অনুষ্ঠান স্থলে আসে এবং মেলা পরিদর্শন করে। তারা এমন সুন্দর আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে তাদের এমন আয়োজনে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠান উপভোগ করছে দর্শনাথীরা
সংগঠনের সভাপতি ফারুক হোসেনের সভাপতিত্বে এবং মনির সোহেলের সঞ্চলনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সেক্রেটারি কাজল আহমেদ। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পর্তুগালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রুহুল আলম সিদ্দিক এবং পর্তুগালের কমিউনিটি ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব জহিরুল আলম জসিম।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের অ্যাসেম্বলি সভাপতি নজরুল ইসলাম শরীপ, সহ সভাপতি ইদ্রিস মাতব্বর, মবিন দেওয়ান, অর্থ সম্পাদক রাকীব হোসেন, মজিবুর রহমান, হাবীবুর রহমান, আবদুর রাজ্জাক প্রমূখ।
পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ দূতাবাস লিসবন দিনব্যাপী কনসুলাস সেবার আয়োজন করে অনুষ্ঠানস্থলে। উক্ত এলাকায় আশেপাশে বসবাসরত বাংলাদেশী কমিউনিটির অনেকেই সেবাটি গ্রহণ করে।

দর্শনাথীদের ভিড়
নববর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে মনোরম বৈশাখী মেলার আয়োজন ছিল অন্যতম সেরা আকর্ষন। এতে প্রায় ১৫ টির মত স্টল বসে বাহারি পসরা সাজিয়ে। মেলার বিভিন্ন স্টলে বসে সুস্বাদু বাহারি রকমের খাবারের প্রদর্শনী, বিভিন্ন ধরনের দেশীয় পিঠা, ঝাল মুড়ী, চটপটি ও দেশীয় বিভিন্ন পোশাক পন্যের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা। এতে আরো প্রদর্শনী করা বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সহ পর্যটন শিল্পকে।

অনুষ্ঠান উপভোগ করছে দর্শনাথীরা
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষন ছিল পর্তুগাল প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যান্ড দল রেয়ার’র সংগীতানুষ্ঠান এবং লন্ডন থেকে আগত জনপ্রিয় শিল্প শতাব্দী রায়ের সংগীত পরিবেশন। বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশীসহ স্থানীয় মানুষ এবং র্পোতোতে বেড়াতে আসা পর্যটকেরা এতে অংশগ্রহণ করে সংগীত পরিবেশন উপভোগ করেন।
মেলায় অংশগ্রহনকারী সকলে এবং দর্শনার্থীরা এমন সুন্দর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। আয়োজক কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে এমন উদ্যোগ সামনের দিনগুলোতে অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান। বিদেশের মাটিতে এমন আয়োজন আমাদের সম্বৃদ্ধ সংস্কৃতিকে বিশ্ব পরিমন্ডলে তুলে ধরার সূবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করে।