রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে মিয়ানমারে অনুকূল পরিবেশ তৈরির জন্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সংলাপভিত্তিক কূটনীতি, জলবায়ু সহযোগিতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নতুন আঞ্চলিক উদ্যোগের প্রস্তাবও দিয়েছে ঢাকা।
ফিলিপাইনের ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত ৩৩তম আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্য দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গার নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ানমারে বাস্তবসম্মত পরিবেশ সৃষ্টি করা জরুরি। তিনি মন্তব্য করেন, রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রহীনতা কোনো দুর্ঘটনাজনিত বাস্তবতা নয়; এটি একটি রাজনৈতিক সংকট, যার সমাধানও রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে সংলাপ ও কূটনীতির প্রতি বাংলাদেশ অটল থাকবে। বিশেষ করে সামুদ্রিক বিরোধের ক্ষেত্রে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি দ্রুত বিকাশমান এআই প্রযুক্তিকে ঘিরে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় এ অঞ্চলের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি যৌথ প্রযুক্তি-শাসন কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাব করেন।
এআরএফ বৈঠকের পাশাপাশি তিনি সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন, মানবিক সহায়তা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে তার মেয়াদে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।