এম এ আহমেদ আরমান,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটাতে সবাইকে সুখে রাখতে ভাগ্য অন্বেষণে গিয়ে নিজেই চিরদিনের মতো হারিয়ে গেলেন হাটহাজারী উপজেলার উত্তর মাদার্শা ইউনিয়নের হাফেজ মোহাম্মদ উসমান গনি (৪০)। মঙ্গলবার (৭ মে) সৌদি আরবের দাম্মামস্থ চোকবা এলাকার নিজ শয়ন কক্ষেই ফজর নামাজের পর হাফেজ মো.উসমান শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেন।
নিহত উসমান চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার মাদার্শার ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইব্রাহিম মুন্দার বাড়ীর মরহুম নুরুল ইলামের পুত্র বলে জানা গেছে। সৌদিয়া থেকে নিহতের এক প্রতিবেশী জানান, উসমান তিন মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের পিতা, তবে অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে নিহত উসমান একটি মাত্র কন্যা সন্তানের বাবা ছিলেন।
দাম্মাম প্রবাসী চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানার সোহরাব হোসেন (মাসুদ) মোবাইল ফোনে জানান, দীর্ঘদিন যাবত সৌদিআরবে বৈধভাবে বাস করে আসলেও গত দুই বছর ধরে কফিলের সাথে মনোমালিন্য হওয়ায় কফিল তার কোনো খোঁজ খবর নিতেন না, যার কারনে তিনি নিরুপায় হয়ে অবৈধ ভাবে সৌদিতে বাস করে আসছিলেন। গত মঙ্গলবার প্রথম রমজানের সেহেরী খেয়ে মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করে তার রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ার কিছুক্ষন পর হাফেজ মোহাম্মদ উসমান গনি বুকে ব্যথা নিয়ে ছটপট করতে থাকলে পাশে থাকা রুমমেটের ঘুম ভেঙ্গে যায়। রুমমেট কিছু বুঝে উঠার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পরেন প্রবাসী উসমান গনি।
সোহরাব হোসেন মাসুদ আরও জানান, বর্তমানে নিহতের লাশ দাম্মাম চোকবা হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং লাশ দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। লাশ দেশে পাঠাতে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব রকমের সহযোগিতা করা হবে বলে দূতাবাসের অফিসার ফয়সাল হোসেন জানিয়েছেন। এদিকে উসমানের কপিল উসমানের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে নিহতের পাসপোর্ট ফেরত দেয়া সহ সব ধরনের সহযোগিতা করারও আশ্বাস দিয়েছেন।
সোহরাব হোসেন মাসুদ বলেন, খুব দুঃখ লাগে দেশে রেমিটেন্স পাঠাতে আমরা পরিবার পরিজন ছেড়ে সাত সমূদ্র তের নদীর এ পারে বছরের পর বছর কাটিয়ে দিচ্ছি, অথচ কোনো কারনে আমাদের মৃত্যু হলে লাশটা দেশে পাঠাতে বিভিন্ন ভাবে হয়রানির স্বীকার হতে হয়, চাঁদা সংগ্রহ করতে হয়। বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আমাদের আবেদন, তিনি যেনো অনন্ত মৃত্যুর পর লাশটা দেশে পরিবারের কাছে পাঠানোর ব্যাপারে যাবতীয় সহযোগীতা করেন।
আরেক প্রবাসী নুরুল ইসলাম জানান, নিহতের লাশটা দেশে পাঠাতে প্রায় ৮ হাজার রিয়াল দরকার আর এয়ারপোর্টে গেলে সরকার কর্তৃক দাফনের খরচ বাবত ৩৫ হাজার টাকা দিবে বলে জেনেছি। তাই আমরা প্রবাসীরা ঐ ৮ হাজার রিয়াল সংগ্রহ করার চেষ্টায় আছি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উত্তর মাদার্শার চেয়ারম্যান মনজুর হোসেন চৌধুরী মাসুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিকাল ৫টার দিকে সাংবাদিকদের জানান, নিহত হাফেজ ওসমান গনিকে সৌদি আরবেই দাফন করার ব্যাপারে পারিবারিক ভাবে সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সৌদি আরবে হৃদরোধে আক্রান্ত হয়ে বহু প্রবাসীর মৃত্যু হচ্ছে। মরুভূমির উত্তপ্ত গরম, অতিরিক্ত পরিশ্রম কিংবা মানসিক চিন্তায় এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।