শিরোনাম :
বাংলাদেশিদের জন্য আবারও খুলছে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা, বদলেছে আবেদন পদ্ধতি তরুণ শিল্পীদের সৃজনশীলতা মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস স্মরণ করায়: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল গুমের শিকার পরিবারের জন্য বিশেষ ভাতার উদ্যোগ, দায়ীদের বিচার হবে: মির্জা ফখরুল দেশের সীমান্তে একজনকেও অবৈধভাবে পুশ-ইন হতে দেওয়া হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জার্মানিকে হারিয়ে ইতিহাস, ইকুয়েডরে শুক্রবার জাতীয় ছুটি ঘোষণা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে ‘কঠোর যাচাইকরণ ব্যবস্থা’ চাইল আইএইএ হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি জাহাজের ওপর টোল বসাতে চায় ইরান, বছরে ৪০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি বেড়ে ৭০২ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ-মিয়ানমার আলোচনায় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি চীনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বৈঠক, নিরাপত্তা ও অভিবাসন সহযোগিতায় গুরুত্ব

নারী ও কন্যা নির্যাতন (পারিবারিক বিরোধ) প্রতিরোধ ও প্রতিকারে সালিশী কার্যক্রম ও আইনগত সহায়তা বিষয়ক কর্মশালা

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

৯মে ২০২৬ সকাল ১০:০০টা থেকে দিনব্যাপী  বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে সংগঠনের আনোয়ারা বেগম-মুনিরা খান মিলনায়তনে নারী ও কন্যা নির্যাতন (পারিবারিক বিরোধ)  প্রতিরোধ ও প্রতিকারে সালিশী কার্যক্রম ও আইনগত সহায়তা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সাহানা কবির। কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু; কর্মশালার প্রেক্ষাপট এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলোচনা করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা। সালিশী কার্যক্রমে অনুসরণীয় মুলনীতি এবং সালিশী বৈঠক পরিচালনা ও লিখন পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ(অবসরপ্রাপ্ত), গবেষক ও আইন বিশ্লেষক ফউজুল আজিম। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সালিশ নীতিমালা সম্পর্কে আলোচনা করেন লিগ্যাল এইড সম্পদক রেখা সাহা।


উদ্বোধনী  অধিবেশন শেষে প্রথম কর্ম অধিবেশনে হাউজ রুল ও প্রত্যাশা সম্পর্কে আলোচনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের লিগ্যাল এইড অফিসার নুসরাত এলাহী এশা।  বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আইনগত সহায়তার ক্ষেত্রসমূহ: আইনগত পরামর্শ, মানসিক সহায়তা বা কাউন্সেলিং; চিকিৎসা সহায়তা, জিডি/থানায় অভিযোগ/এফ আই আর; কাউন্সেলিং এর উদ্দেশ্য ও ধাপসমূহ এবং আবেদন গ্রহণ পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করেন প্রোগ্রাম অফিসার (কাউন্সিলিং)সাবিকুন নাহার।

দ্বিতীয় কর্ম অধিবেশনে বাস্তব কাজের ধারা পদ্ধতি  (ফৌজদারি অপরাধ) এবং সরকারের সাথে যৌথ কার্যক্রম বিষয়ে আলোচনা করেন সহকারী পরিচালক(লিগ্যাল এ্যাডভোকেসি ও লবি) অ্যাড. ফাতেমা খাতুন। নথিপত্র সংরক্ষণ এবং রিপোর্টিং বিষয়ে আলোচনা করেন উপপরিচালক (লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি ও লবি) অ্যাড. রামলাল রাহা। দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে জেলাশাখা থেকে আগত নেত্রীবৃন্দের অংশগ্রহণে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির ০৬ টি বিষয়ের উপর দলীয় কাজ অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় কাজ পরিচালনা করেন লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি ও লবি পরিচালক অ্যাড. দীপ্তি শিকদার। দলীয় কাজ শেষে তৃতীয় অধিবেশনে দলীয় কাজ উপস্থাপন করেন জেলাশাখার নেত্রীবৃন্দ।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সাহানা কবির বলেন, পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে মধ্যস্থতা বা সালিশী কার্যক্রম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আজকের কর্মশালা থেকে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা জেলা শাখার নেত্রীবৃন্দ তাদের নিজ জেলার কার্যক্রমে ব্যবহার করবেন। তিনি আইনগত সহায়তার ক্ষেত্রে সকলকে হালনাগাদ আইনী বিষয় ও তথ্য জানার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, নারী-পুরষের সমতা প্রতিষ্ঠা ও নারীর মানবাধিকার রক্ষায় নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ করা আমাদের অন্যতম কাজ। জাতিসংঘের বৈশি^ক কর্মসূচীর ক্ষেত্রেও নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের বিষয়টিকে সমঅধিক জোর দেয়া হয়েছে। তিনি এসময় নারীর প্রতি সহিংসতার বিষয়টি  উল্লেখ করে বলেন সদস্যরাষ্ট্রগুলো নারীর প্রতি যেকোন ধরণের সহিংস আচরণ (শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক এবং যেকোনো সহিংস আচরণ) প্রতিরোধ ও প্রতিকারে পদক্ষেপ নিবে। কিন্তু বাসÍবে তেমন হচ্ছে না, পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এডিআর বা সালিশের মাধ্যমে এর মাধ্যমে সমস্যা সমাধোনের চেষ্টা করা হয়, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সহিংসতা বন্ধে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারকেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি এসময় বলেন  আদালতের দীর্ঘমেয়াদী ও ব্যয়বহুল পথ থেকে মানুষকে স্বল্প সময়ে ও স্বল্প ব্যয়ে পারিবারিক বিষয়ে আইনী সমাধান দেয়ার ক্ষেত্রে সালিশ কার্যক্রম পরিচালনা ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ তার জন্মলগ্ন থেকে সালিশী কার্যক্রম শুরু করেছে যা এখন অনেক সংগঠনই করছে। কাজেই পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সালিশী  কার্যক্রমকে বাস্তবিকভাবে একটি গঠনমূলক ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ায় পরিচালনার জন্য আজকের কর্মশালা-বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বলেন, পারিবারিক বিষয়ে সালিশী কার্যক্রম পরিচালনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নির্যাতনের শিকার নারী ও তার পরিবারকে আইনগত সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি সালিশের মাধ্যমে দেনমোহর ও ভরণপোষণ আদায়ের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে সরকারি লিগ্যাল এইড ও অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সালিশ পরিচালনার কাজ করলেও যথাযথ ডকুমেন্টেশন হচ্ছেনা। তিনি এসময় সালিশ পরিচালনার ক্ষেত্রে দালিলিক কাজ, অভিযোগ গ্রহণ, আইনী কাঠামোর মধ্যে সালিশের সিদ্ধান্ত লিখিত করা, দেনমোহর আদায় করে আবেদনকারীকে প্রদানের লক্ষ্যে সঠিক নিয়ম অনুসরণ, রশিদের প্রদান; সালিশী নীতিমালার যথাযথ নয়মতান্ত্রিকভাবে অনুসরণের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা বলেন; নারীর প্রতি সহিংসতা নিয়ে  পারিবারিকভাবে কথা বলা বা সচেতন করার বিষয়টি আলোচনা করা দরকার। আমরা উপলব্ধি করছি নারীর মানবাধিকার বিষয়ে আমাদের আরো কর্মশালা দরকার।

উক্ত কর্মশালায় ৫৭ টি জেলা শাখা থেকে ১১৪ জন নেত্রীবৃন্দসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেত্রীবৃন্দ, সম্পাদকমন্ডলী ও কর্মকর্তাসহ প্রায় ১৫০ জন উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালার অধিবেশনসমূহ সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের লিগ্যাল এইড অফিসার সিননোমে মারমা এবং  বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটির লিগ্যাল এইড সম্পাদক শামীমা আফরোজ আইরিন।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

©germanbanglanews24
Developer Design Host BD