কবি আসাদ চৌধুরী ছিলেন বাংলাদেশের একজন কবি ও সাহিত্যিক। কবিতার পাশাপাশি তিনি বেশ কিছু শিশুতোষ গ্রন্থ, ছড়া, জীবনী ইত্যাদি রচনা করেছেন। কিছু অনুবাদকর্মও তিনি সম্পাদন করেছেন। ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দে তার রচিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শীর্ষক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
বাংলা সাহিত্যের এই কবি ব্লাড ক্যান্সার, শ্বাসকষ্ট, কিডনি জটিলতাসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। গতকাল বুধবার (৫ ই আগস্ট) দিবাগত রাত তিনটায় কানাডার টরন্টোতে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
কবি আসাদ চৌধুরীর মৃত্যুতে সরকারের বিভিন্ন মহল,বাংলা একাডেমি , গণমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রকাশনী শোক প্রকাশ করছেন।
বাংলা একাডেমি এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আসাদ চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি।
প্রতিমন্ত্রী এক শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
শোকবার্তায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, কবি আসাদ চৌধুরীর মৃত্যু বাংলা সাহিত্যের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার লেখনী বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। তিনি তাঁর সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে সাহিত্যপ্রমী মানুষের হৃদয়ে চিরজাগরুক থাকবেন।
বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কবি ও সাহিত্যিক আসাদ চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন, এমপি।
এক শোকবার্তায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কবি আসাদ চৌধুরীর মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্যের অপূরণীয় ক্ষতি হলো। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তাঁর অনন্য পদচারণা বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে।’ তিনি বলেন, ‘দেশের বাইরেও বাংলা সাহিত্য চর্চায় তিনি বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। উত্তর আমেরিকায় বাংলা সাহিত্যের অগ্রযাত্রায় এবং সেখানকার সাহিত্যানুরাগীদের বাংলা ভাষা ও কৃষ্টিতে আকৃষ্ট করতে তার অবদান অনস্বীকার্য।’
তিনি মরহুম আসাদ চৌধুরীর রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় কবি আসাদ চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
ড. হাছান তার শোকবার্তায় বলেন, কবি আসাদ চৌধুরী বাংলাদেশের প্রধান কবিদের অন্যতম। তিনি তার আকর্ষণীয় বাচনভঙ্গী, টেলিভিশনে জনপ্রিয় সব অনুষ্ঠান পরিকল্পনা ও উপস্থাপনার জন্য পরিচিত। এ ছাড়া তিনি তার ভরাট কণ্ঠে কবিতা আবৃত্তি করেও মানুষের মন জয় করেছেন। মৌলিক কবিতা ছাড়াও শিশুতোষ গ্রন্থ, ছড়া, জীবনী এবং অনুবাদকর্মে তার অনেক অবদান রয়েছে। কবি আসাদ চৌধুরী তার সৃষ্টিকর্মের মাঝে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
জার্মান বাংলা নিউজ ২৪ পরিবার কবি আসাদ চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছে। কবির পরিবার যেন তাঁর এই চলে যাওয়ার শোক দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পারে সেই প্রত্যাশা করছেন।
কবি আসাদ চৌধুরী তাঁর প্রথম কবিতার বই ‘তবক দেওয়া পান’–এর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৮৩ সালে তার রচিত ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। একই বছর তিনি ‘সংগ্রামী নায়ক বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক বঙ্গবন্ধুর জীবনী ভিত্তিক গ্রন্থ সম্পাদনা করেন। ১৯৮৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান তিনি। ২০১৩ সালে পান একুশে পদক। বাংলা ভাষা যতদিন আছে কবি আসাদ চৌধুরীর সৃষ্টি লেখনি ততদিন বাঙালির চেতনায় থেকে যাবে।