ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশের একমাত্র কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি উৎপাদন ইউনিটই চালু করা হয়েছে। পানি বাড়ায় কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদনও আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট থাকায় জুন মাস পর্যন্ত মাত্র এক বা দুটি ইউনিট দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছিল। কিন্তু চলতি মাসের ৭ জুলাই থেকে পর্যাপ্ত পানি পাওয়ায় কেন্দ্রটির সবগুলো ইউনিট একযোগে চালু করা হয়। ওই দিন উৎপাদন হয়েছিল ১৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
কপাবিকের ব্যবস্থাপক (প্রকৌশল) মাহমুদ হাসান জানান, গত সাত দিনের ধারাবাহিক বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদে পানির প্রবাহ বেড়েছে। ফলে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৭৯ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে।
বর্তমানে ১ ও ২ নম্বর ইউনিট থেকে ৪২ মেগাওয়াট করে মোট ৮৪ মেগাওয়াট, ৩ নম্বর ইউনিট থেকে ৩৫ মেগাওয়াট এবং ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিট থেকে ৩০ মেগাওয়াট করে মোট ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। যদিও কেন্দ্রটির পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা ২৪০ মেগাওয়াট।
কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৯টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ৯০ দশমিক ৩১ ফুট (মিন সি লেভেল), যা এ সময়ের নির্ধারিত রুল কার্ভের ৮৫ দশমিক ৪৪ ফুটের চেয়ে অনেক বেশি। হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৮ ফুট হওয়ায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আরও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে পানির স্তর নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
সূত্র: কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র (কপাবিকে)