নগরের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় ‘আলো ক্লিনিক’ বিস্তারের উদ্যোগনগর এলাকার সুবিধাবঞ্চিত শিশু, নারী ও পরিবারের জন্য মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও বিস্তৃত করতে ‘আলো ক্লিনিক’ মডেল সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে সরকার। চার বছরের বেশি সময়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও ইতিবাচক ফলাফলের ভিত্তিতে এ মডেলকে দেশের অন্যান্য নগর এলাকাতেও বাস্তবায়নের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে।
বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত জাতীয় ডিসেমিনেশন কর্মশালায় আলো ক্লিনিকের কার্যক্রম, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, বাংলাদেশ সরকার ও ইউনিসেফের অংশীদারিত্বে, সুইডেন সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত আলো ক্লিনিক প্রকল্প ২০২১ সাল থেকে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে ছয়টি কেন্দ্রের মাধ্যমে সমন্বিত ও ডিজিটাল প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে।
এই ক্লিনিকগুলোতে মাতৃ ও শিশুসেবা, নবজাতকের পরিচর্যা, টিকাদান, পুষ্টি স্ক্রিনিং, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যপরামর্শ দেওয়া হয়। প্রতিদিন গড়ে ১৬৮ জন রোগী এসব সেবা গ্রহণ করেন। এছাড়া কমিউনিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে গর্ভবতী নারী ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সেবার আওতায় আনা হচ্ছে।
চারটি আলো ক্লিনিকে সার্বক্ষণিক ধাত্রী-নেতৃত্বাধীন প্রসবসেবা চালু রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি নিরাপদ প্রসব সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি UHDSS-এর তথ্য বলছে, প্রকল্প এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসবের হার বেড়েছে এবং নবজাতক ও শিশু মৃত্যুহার কমেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তিনি জানান, সিটি করপোরেশন থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে আসা ১৯২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আলো ক্লিনিকের সফল অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য তিনি নিজেও একটি আলো ক্লিনিক পরিদর্শন করবেন বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, সরকারি হাসপাতালের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন করা হবে। পাশাপাশি উপজেলা, জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণ এবং দুর্গম এলাকার রোগীদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কর্মশালায় আলো ক্লিনিকের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি কনসেপ্ট নোট তৈরির জন্য ইউনিসেফকে অনুরোধ জানিয়েছে সরকার। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস)